👁 149 Views

কুয়াকাটায় অনুমতি ছাড়া জামায়াত এমপি মাসুদ সাঈদীর আলোচিত তারকামানের হোটেল ইস্তানবুলের নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দিলো প্রশাসন

কলাপাড়া(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি : পটুয়াখালী : পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় জামায়াত এমপি মাসুদ সাঈদীর আলোচিত তারকামাণের হোটেল ‘ইস্তানবুল’ এর নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন। মঙ্গলবার বিকেলে কলাপাড়া ইউএনও মো. আরিফুজ্জামান এবং কুয়াকাটা পৌরসভার প্রশাসক ইয়াসীন সাদেক ইস্তানবুলের নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেয়। এসময় একটি নিষেধাজ্ঞার ব্যানার টানিয়ে দেয়া হয়। পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটায় অপরিকল্পিত হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট ও বহুতল ভবন নির্মাণ নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ। পদ্মা সেতু চালুর পর দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনে সম্প্রসারিত হচ্ছে পর্যটনকেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্য। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে একের পর এক হোটেল ও রিসোর্ট নির্মিত হলেও পরিকল্পিত নগরায়ণ নিশ্চিত করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ পরিস্থিতিতে কুয়াকাটার মাস্টারপ্ল্যান যথাযথভাবে বাস্তবায়ন, নির্মাণকাজে বিধিবিধান অনুসরণ এবং সংশ্লিষ্ট সবার মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে পৌর কর্তৃপক্ষ। গত দুই মাসে ৭ টি ভবনের নির্মাণ অনুমোদন দেওয়া হলেও ৩৫ টি নির্মাণাধীন ভবনের নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশনা সংবলিত সাইনবোর্ড স্থাপন করেছে পৌরসভা।
 
বুধবার সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ইস্তানবুল হোটেল এন্ড রিসোর্ট জমি কেনার পূর্বে জেলা প্রশাসক, পটুয়াখালী এর অনুমতি এবং স্থাপনা নির্মাণের পূর্বে বিভাগীয় কমিশনার, বরিশাল এর অনুমতি নেননি। এছাড়া ইস্তানবুল হোটেল এন্ড রির্সোট লি: এর নামীয় জমির নামজারী নেই এবং Kuakata Tourism Center (KTC) Master plan -২০২৪ এ বিআরএস  Land Zone ম্যাপে বিআরএস  কুয়াকাটা মৌজার বিআরএস ৪১১৯, ৪১২১, ৪১৩৯, ৪১৩৯ দাগ Propossed Railway Line  Proposed Rail Station Zone  এ অবস্থিত বিধায় নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্র জানায়। কুয়াকাটা পৌর এলাকার মুসল্লীয়াবাদ গ্রাম সংলগ্ন এলাকায় মরহুম দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীর পুত্র,  পিরোজপুর-১ আসনের জামায়াত থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদীর তত্ত্বাবধানে তারকামাণের হোটেল ‘ইস্তানবুল’ প্রকল্পের নির্মাণ কাজ চলছিল। এছাড়া নির্মাণাধীন ওই জমির মালিকানা নিয়ে কুয়াকাটার স্থানীয় রাখাইন উমাচ্যান ও জাহাঙ্গীর হাওলাদার জমির মালিকানা দাবি করে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। মামলা দায়েরের পর আদালত নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে, যা এখনো বলবৎ রয়েছে বলে জানায় স্থানীয় সূত্র।
 
কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এম এ মোতালেব শরীফ জানান, দেশের অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটায় বর্তমানে ৩০০টিরও বেশি হোটেল-মোটেল রয়েছে। এর মধ্যে ১৭০টি হোটেল-মোটেল তাঁদের সংগঠনের আওতাভুক্ত। এসব হোটেল-মোটেলে পর্যটকদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় অবস্থান নিশ্চিত করতে হোটেল-মোটেলগুলোর সেবার মান উন্নয়ন এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা জরুরি।
 
কুয়াকাটা পৌরসভার প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসীন সাদেক বলেন, পৌরসভায় যেকোনো অনুমোদনহীন ভবন নির্মাণে আমরা বাঁধা দিচ্ছি ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছি। ভবন নির্মাণের প্রস্তাব যাচাই ও অনুমোদনের বিষয়ে বিভাগীয় কমিশনার, পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক, গণপূর্ত অধিদপ্তর (পিডব্লিউডি), স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), কুয়াকাটা পৌরসভার প্রশাসক এবং নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সিনিয়র প্ল্যানারের সমন্বয়ে একটি কমিটি রয়েছে। কমিটি প্রস্তাবিত ভবনের নকশা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত দেয়। তিঁনি আরো জানান, মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী, বেড়িবাঁধসংলগ্ন এলাকায় ভবনের উচ্চতা নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে রাখতে হবে। এছাড়া বিল্ডিং কন্সট্রাকশন অ্যাক্ট, ১৯৫২ অনুসারে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ব্যতীত ভবন নির্মাণ করা দন্ডনীয় অপরাধ এবং কুয়াকাটার মাস্টারপ্ল্যানে এই জমি রেলওয়ে স্থাপনার জন্য বরাদ্দকৃত বলে তিঁনি নিশ্চিত করেন।