👁 379 Views

নিউইয়র্কের বাংলাদেশ সোসাইটিতে তরুণ নেতৃত্বের সুযোগ সৃষ্টির আহ্বান

ইমা এলিস, নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি: যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ‘ভবিষ্যতে কেমন বাংলাদেশ সোসাইটি আমরা দেখতে চাই’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় সময় শুক্রবার (২১ আগষ্ট) জ্যাকসন হাইটসের একটি রেস্তোরাঁয় অনুষ্ঠিত উক্ত অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ‘ফাউন্ডেশন ফর বেটার ওয়ার্ল্ড’-এর প্রেসিডেন্ট এবং সভাপতির আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সোবহান।
তিনি তার বক্তব্যে ভবিষ্যতে কেমন বাংলাদেশ সোসাইটি আমরা দেখতে চাই, সোসাইটির কার্যক্রমে কী ধরনের পরিবর্তন ও উন্নয়ন প্রয়োজন এবং আগামী দিনে নির্বাচিত নেতৃত্ব কীভাবে এসব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে পারে এসব বিষয় তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, আজকের প্যানেলে উপস্থিত অভিজ্ঞ নেতৃবৃন্দ ও কমিউনিটি প্রতিনিধিরা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তাদের মতামত তুলে ধরবেন। এসব আলোচনা থেকে প্রাপ্ত মতামত ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের জন্য দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে ‘ফাউন্ডেশন ফর বেটার ওয়ার্ল্ড’-এর উদ্যোগে ‘একনজরে বাংলাদেশ সোসাইটি’ নামে একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসংকলন প্রকাশের বিষয়টি তুলে ধরা হয়।
এই তথ্যসংকলনে বাংলাদেশ সোসাইটির বিভিন্ন সময়ের সভাপতি ও সম্পাদক-এর নাম, দায়িত্ব পালনের সময়কাল এবং ছবি সংযুক্ত করা হয়েছে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশ সোসাইটির ইতিহাস ও নেতৃত্ব সম্পর্কে তথ্য জানতে এটি একটি সহায়ক দলিল হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।
অনুষ্ঠানের নেতৃত্ব, নির্বাচন ও স্বচ্ছতা নিয়ে মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন পর্যায়ে প্যানেলের প্রায় ১৩–১৪ জন বক্তা তাদের বক্তব্য রাখেন। এদের মধ্যে ছিলেন মনমাউথ ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ও ডিন, ড. গোলাম এম.মাতবর, ড. দিলীপ নাথ, নাসির খান পল, গিয়াস আহমেদ, মঈন চৌধুরী, হাসান হাবিব, শাহ শহীদুল হক, ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার, সারোয়ার আহমেদ, মো. বাবুল চৌধুরী, কাজী সাখাওয়াত হোসেন আজম, আখতার হোসেন বাদল, ফারহানা চৌধুরী, প্রকৌশলী আবদুস সোবহান, ও মো. মাহবুবুর রহমান প্রমুখ।
আলোচনায় বাংলাদেশ সোসাইটির বর্তমান ‘ভোটার রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতি, নির্বাচনী প্রক্রিয়া, নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অংশগ্রহণসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসে।
বক্তারা আরও মতামত দেন যে, একই ব্যক্তি বা একই প্যানেলের সদস্যরা বারবার নেতৃত্বের পদে না থেকে নতুন নেতৃত্বকে সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা যেতে পারে। একই সঙ্গে অভিজ্ঞ ও তরুণ নেতৃত্বের মধ্যে একটি ভারসাম্য তৈরি করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বাংলাদেশ সোসাইটির ‘আর্থিক ব্যবস্থাপনা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা’ নিয়েও আলোচনায় বিভিন্ন মতামত ও প্রশ্ন উঠে আসে। সংগঠনের আর্থিক বিষয়গুলো আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলকভাবে পরিচালনার প্রয়োজনীয়তার কথা বক্তারা উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় ছিল নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বে অংশগ্রহণ। আলোচনায় উঠে আসে, অভিজ্ঞ নেতৃত্বের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের তরুণদের নেতৃত্বের সুযোগ দেওয়া হলে বাংলাদেশ সোসাইটিতে অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের মধ্যে একটি সুন্দর ভারসাম্য তৈরি হতে পারে।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সোবহান একটি মতামত জরিপের ফলাফল উপস্থাপন করেন। সেখানে নতুন নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তা এবং নির্বাচনী আলোচনায় প্রার্থীদের অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন করা হয়।
বিশেষ করে, প্রার্থীদের নির্বাচনী আলোচনা বা বিতর্কে অংশগ্রহণ করা উচিত কি না এই প্রশ্নে ৩৯ জনের মধ্যে ৩৮ জন ইতিবাচক মতামত দেন। তরুণ নেতৃত্বের অংশগ্রহণের বিষয়েও উপস্থিতদের মধ্যে ইতিবাচক মতামত পাওয়া যায়।
বাংলাদেশি কমিউনিটির শক্তিকে কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়ে বক্তারা উল্লেখ করেন যে নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশি কমিউনিটি একটি বিশাল ও গুরুত্বপূর্ণ জনগোষ্ঠী। বাংলাদেশি ভোটারদের এই শক্তিকে শুধু নির্বাচনী রাজনীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে কমিউনিটির শিক্ষা, সামাজিক উন্নয়ন, তরুণদের বিকাশ এবং কল্যাণমূলক কাজে ব্যবহার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
আলোচনায় আরও উঠে আসে বাংলাদেশ সোসাইটির নেতৃত্বে আসার জন্য প্রার্থীদের ন্যূনতম যোগ্যতা কী হওয়া উচিত এবং কীভাবে নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য করা যায়।
অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সোবহান বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী দুই দলের প্রধানদের নিয়ে একটি নির্বাচনী বিতর্কের উদ্যোগ আয়োজনের প্রস্তাব দেন।
তিনি জানান, দুই দলের পক্ষ থেকেই আলোচনায় অংশগ্রহণের ব্যাপারে সম্মতি পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে টিবিএন২৪ সহ সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তীতে একটি তারিখ ঘোষণা করা হবে।
প্রস্তাবিত আলোচনার কাঠামো অনুযায়ী, দুই প্যানেল থেকে দুইজন করে মোট চারজন প্রতিনিধি আলোচনায় অংশ নেবেন। পাশাপাশি কমিউনিটির গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের মধ্য থেকে প্রায় ১৫ জন স্টুডিওতে উপস্থিত থেকে আলোচনায় মতামত প্রদান ও মূল্যায়নে অংশ নিতে পারবেন।
অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশ সোসাইটিকে আরও কার্যকর, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও কল্যাণমুখী সংগঠন হিসেবে গড়ে তোলার জন্য একটি মুক্ত, গঠনমূলক ও ইতিবাচক আলোচনা তৈরি করা।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, এই ধরনের আলোচনা ভবিষ্যৎ নেতৃত্বকে আরও সক্রিয় হতে উৎসাহিত করবে এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিরা বাংলাদেশি কমিউনিটির কল্যাণ ও উন্নয়নে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করবেন।
ফাউন্ডেশন ফর বেটার ওয়ার্ল্ড অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করে জানায় সংগঠনটি কোনো ব্যক্তি, প্যানেল বা পক্ষের পক্ষে বা বিপক্ষে নয়। তাদের মূল লক্ষ্য হলো উন্নয়নের পক্ষে থাকা এবং বাংলাদেশি কমিউনিটির বৃহত্তর কল্যাণে কাজ করা।
অনুষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত সকল বক্তা, অতিথি, সাংবাদিক, দর্শক, প্যানেল সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে ফাউন্ডেশন ফর বেটার ওয়ার্ল্ড-এর পক্ষ থেকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানানো হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *