👁 135 Views

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার্থে বাজেটে তামাকপণ্যের মূল্য বৃদ্ধিসহ তামাক নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে সরকার বদ্ধপরিকর: জিয়াউদ্দিন হায়দার

প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস. এম. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকার ছিল জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও তামাক নিয়ন্ত্রণ। বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিশু-কিশোরসহ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তামাক ও নিকোটিনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষিত রাখার বিষয়ে সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের চূড়ান্ত বাজেট প্রণয়নের এই সময়টি জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ সৃষ্টি করেছে।

বুধবার (২৪ জুন ২০২৬) সকালে রাজধানীর বিএমএ ভবনে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) এবং ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন অব দ্য রুরাল পুওর (ডব়্প)-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষাঃ প্রতিবন্ধকতা ও করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে জেবা আফরোজা বলেন, জনস্বাস্থ্য ও তামাক নিয়ন্ত্রণ বিশেষজ্ঞদের পক্ষ থেকে কর আহরণ সহজীকরণের জন্য বাজারে বিদ্যমান সিগারেটের স্তর চারটি থেকে তিনটিতে নামিয়ে আনার প্রস্তাব করা হয়েছিল। কারণ নিম্ন ও মধ্যম স্তরের সিগারেটের দাম কাছাকাছি হওয়ায় একটি স্তরের দাম বৃদ্ধি পেলে ভোক্তারা সহজেই অন্য স্তরে স্থানান্তরিত হওয়ার সুযোগ পায়। তাই এই দুটি স্তর একীভূত করে ১০ শলাকার একটি প্যাকেটের মূল্য ১০০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে সব স্তরের সিগারেটের ওপর বিদ্যমান ৬৭ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক বহাল রেখে প্রতি ১০ শলাকার প্যাকেটে ৪ টাকা সুনির্দিষ্ট কর আরোপের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল। এ প্রস্তাব গ্রহণ করা হলে বিশেষত তরুণদের কাছে তামাকপণ্য কম সহজলভ্য হত।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থ ইনস্টিটিউটের পরিচালক ড. শাফিউন নাহিন বলেন, বাজেট প্রস্তাবে সরকার কেবল সিগারেটের যৎসামান্য মূল্য বৃদ্ধি করেছে। নিম্নস্তরের ১০ শলাকার সিগারেটের

মূল্য ৬০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬২ টাকা করা হয়েছে। অথচ বাজারে বিক্রিত প্রায় ৭৫ শতাংশ সিগারেটই এই স্তরের। ফলে ১০ শলাকার প্যাকেটে মাত্র ২ টাকা মূল্য বৃদ্ধি তামাক ব্যবহার নিরুৎসাহিত করার জন্য যথেষ্ট নয়। কারণ মূল্যস্ফিতি গড়ে ৯% এর উপর। তিনি বলেন, নিম্নস্তরের সিগারেটের প্রতি শলাকার মূল্য দাঁড়ায় ৬.২ টাকা, অথচ দেশের বিভিন্ন স্থানে খুচরা পর্য়ায়ে আগে থেকেই প্রতি শলাকা ৭ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফলে তামাক কোম্পানিগুলো প্রতি শলাকায় প্রায় ০.৮ টাকা অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনের সুযোগ পাবে, যার পুরোটাই করমুক্ত থেকে যাবে।

তিনি আরও বলেন, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাংলাদেশে শুধু নিম্নস্তরের সিগারেট বিক্রি হয়েছিল ৬৮.৮৯ বিলিয়ন শলাকা। এই বিপুল বিক্রয়ের বিপরীতে প্রতি শলাকায় ০.৮ টাকা অতিরিক্ত মুনাফা হিসাব করলে তামাক কোম্পানিগুলোর অতিরিক্ত আয় দাঁড়ায় প্রায় ৫,৫১২ কোটি টাকা। অর্থাৎ সরকার এই বিপুল পরিমাণ সম্ভাব্য রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হবে।

সভায় বক্তারা তামাক নিয়ন্ত্রণ সংশোধন করায় সরকারকে ধন্যবাদ জানান এবং নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তামাক নিয়ন্ত্রণের জন্য বিশেষ করে আগামী প্রজন্মকে সুরক্ষায় সরকার যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন মর্মে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

প্রধান আলোচকের বক্তব্যে ড্যাব-এর মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে নিকোটিন পাউচ, নিকোটিন গ্র্যানুলস এবং হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্টস (এইচটিপি)-এর ওপর কর আরোপ করা হয়েছে। এর ফলে এসব নতুন নিকোটিনজাত পণ্য কার্যত বৈধতা পাচ্ছে। এতে এসব পণ্যের বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ সৃষ্টি হবে, যা বিশেষ করে তরুণ ও কিশোরদের মধ্যে নিকোটিন আসক্তি বৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি করবে।

ডব়্প-এর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে তামাক নিয়ন্ত্রণে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে সভাপতির বক্তব্যে ড্যাব-এর সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশিদ বলেন, জনস্বাস্থ্য ও তামাক নিয়ন্ত্রণ বিশেষজ্ঞদের প্রস্তাব বিবেচনায় নিয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে নিম্নস্তরের সিগারেট ও ধোঁয়াবিহীন তামাকপণ্যের কর ও মূল্য কাঠামো পুনর্বিবেচনার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছে ড্যাব। তিনি বলেন, বিশেষজ্ঞদের প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে সরকার অতিরিক্ত প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় করতে পারবে। একই সঙ্গে প্রায় পাঁচ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক ধূমপায়ী ধূমপান ত্যাগে উৎসাহিত হবে, ৩ লাখ ৭২ হাজার তরুণ ধূমপান শুরু করা থেকে বিরত থাকবে এবং দীর্ঘমেয়াদে প্রায় চার লাখ অকালমৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।

সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য দেন ডব়্প-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও এএইচএম নোমান এবং সঞ্চালনা করেন উপ-নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ যোবায়ের হাসান। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য সেক্টরের পরিচালক ইকবাল মাসুদ, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের রোগতত্ত্ব ও গবেষণা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী, ড্যাব-এর সদস্যবৃন্দ এবং যুব প্রতিনিধি রাত্রি, সন্ধিসহ আরও অনেকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *