👁 493 Views

চরফ্যাশন চৌকি কোর্টে সাক্ষীকে আটকে রেখে চাঁদাবাজি

ভোলা প্রতিনিধি : ভোলার চরফ্যাশন চৌকি কোর্টে একটি মামলার সাক্ষীকে (মামলা নম্বর- জিআর ৪৩/২০২২) আটকে রেখে ২০ হাজার টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) হযরত আলীর বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট আদালতে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাশেম মিয়া হয়রানি ও হুমকির শিকার হন এবং পরে ২০ হাজার টাকা দেওয়ার পর তাকে পিপি হযরত আলীর চেম্বার থেকে বের করে আনা হয় বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ওসমানগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চৌকিদার আজাদ হোসেন জানান,২০২২ সালের ১৩ই মার্চ ওসমানগঞ্জ ইউনিয়নের বাসিন্দা ঢাকায় বসবাসরত জনৈক মোস্তাক আহমেদের পুকুরের মাছ লুটের ঘটনা ঘটে। বিষয়টি তৎকালীন ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ আবুল কাশেম মিয়াকে জানানো হলে তিনি চৌকিদার ঝিলনকে ঘটনাস্থলে পাঠান।
সেখানে মাছ লুটের সঙ্গে জড়িতদের হামলায় চৌকিদার ঝিলন গুরুতর আহত হন এবং তার জামাকাপড় ছিঁড়ে ফেলা হয়।
এ ঘটনায় ২০২২ সালের ১৩ মার্চ চরফ্যাশন থানায় মামলা দায়ের করা হয়। পুলিশ ঘটনার দিন ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৩ হাজার টাকার মাছ ও জালসহ আসিফ ও রিপন নামে দুজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় এবং পরবর্তীতে তাদের আদালতে চালান দেওয়া হয়। দীর্ঘদিন ধরে মামলাটি আদালতে চলার পর আজ মঙ্গলবার ওই মামলায় সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কাশেমসহ তিনজনকে আদালতে তলব করা হয়। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সাক্ষ্য দিতে চৌকি কোর্টে গেলে সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কাশেম মিয়া পিপি হযরত আলীর দ্বারা হুমকি ও হয়রানির শিকার হন বলে অভিযোগ করেন।
আবুল কাশেম মিয়া বলেন, সকালে মামলার সাক্ষ্য দিতে আদালতে গেলে পিপি হযরত আলী তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিতে থাকেন। এমনকি তার পকেটে মাদক ঢুকিয়ে তাকে জেলহাজতে পাঠানোরও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এক পর্যায়ে তিনি সেখানে অবরুদ্ধ অবস্থায় পড়ে যান। পরে বিষয়টি ওসমানগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নানকে জানালে তিনি তার ছেলে মাখলুকের মাধ্যমে ২০ হাজার টাকা পাঠান। ওই টাকা দেওয়ার পর আবুল কাশেম মিয়াকে পিপি হযরত আলীর চেম্বার থেকে বের করে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনাটি জানা জানি হলে চরফ্যাশনে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে ঢাকা জজ কোটের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জামাল হোসেন মিয়া বলেন, আদালতের নির্দেশে কোনো সাক্ষী আদালতে এসে যদি সরকারি কৌঁসুলির মাধ্যমে হুমকি বা চাঁদাবাজির শিকার হন, তাহলে বিষয়টি গুরুতর এবং আদালত অবমাননার শামিল । তিনি সংশ্লিষ্ট আদালতের মাধ্যমে ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশা প্রকাশ করেন।
অভিযুক্ত পিপি হযরত আলীর বক্তব্য চাওয়া হলে তিনি টাকা নেননি,টাকা নিয়েছেন বিবাদী পক্ষের লোকেরা। কারা এ টাকা নিয়েছেন তাদের নাম জানতে চাইলে তিনি বলতে রাজি হননি। এদিকে কাশেম চেয়ারম্যান জানিয়েছেন পিপি হযরত আলী নিজ হাতে টাকা গ্রহণ করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *