
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: শনিবার ২৬ সেপ্টেম্বর ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার মোবারকগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনে চলন্ত ট্রেনে উঠতে গিয়ে ট্রেনের চাকায় পিষ্ট হয়ে মোছা. রাবেয়া খাতুন (৩৫) নামে এক নারীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। আজ শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬) সকালে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। পরে তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত রাবেয়া খাতুন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের খিলক্ষেত থানার জোয়ার সাহারা (পং পাড়া) এলাকার বাসিন্দা মো. ইকবাল হোসেনের কন্যা এবং সুবিনাজ বেগমের সন্তান। এনআইডি কার্ড অনুযায়ী তার জন্মস্থান যশোর এবং জন্ম তারিখ ১০ জানুয়ারি, ১৯৯১। তিনি ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে তাঁর খালার বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও রেলওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ট্রেনটি মোবারকগঞ্জ রেলস্টেশনে এসে থামে। স্বল্প সময়ের বিরতি শেষে ট্রেনটি স্টেশন থেকে ছেড়ে যাওয়ার সময় রাবেয়া খাতুন চলন্ত ট্রেনে ওঠার চেষ্টা করেন। এ সময় তিনি ট্রেনের হাতল ধরে ওঠার চেষ্টা করলে হঠাৎ পা পিছলে রেললাইনের ওপর পড়ে যান। মুহূর্তের মধ্যেই ট্রেনের চাকায় পিষ্ট হয়ে তাঁর দুই পা ও এক হাত শরীর থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে।
দুর্ঘটনার পর স্টেশনজুড়ে আতঙ্ক ও চিৎকারের সৃষ্টি হলে স্থানীয় লোকজন, রেলওয়ের কর্মী ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর (রেফার) করা হয়। তবে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে হাসপাতালে পৌঁছানোর পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় কিছুক্ষণের মধ্যেই কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
কন্যার এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর পেয়ে পরিবারে নেমে এসেছে অপূরণীয় শোক। এক মুহূর্তের অসাবধানতায় পুরো পরিবারটি স্তব্ধ হয়ে গেছে। এভাবে রাবেয়াকে হারাতে হবে, তা তারা কখনো কল্পনাও করেননি।
এদিকে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর মোবারকগঞ্জ রেলস্টেশনসহ বিভিন্ন স্টেশনে চলন্ত ট্রেনে ওঠার ঝুঁকিপূর্ণ প্রবণতা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিরা রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে স্টেশনগুলোতে যাত্রীদের সচেতন করতে আরও প্রচার-প্রচারণা চালানো এবং ট্রেন সম্পূর্ণ থামার পর যাত্রীদের নিরাপদ ওঠানামা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন।
বর্তমানে নিহতের মরদেহ যশোর জেনারেল হাসপাতালের লাশঘরে (মর্গে) রাখা হয়েছে। রেলওয়ে জিআরপি থানা পুলিশ জানিয়েছে, আইনি প্রক্রিয়া ও ময়নাতদন্তের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।