
নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁর মান্দায় ভালোবাসার টানে হিন্দু থেকে মুসলিম হয়ে তরুনীর বিয়ে। ঘটনাটি প্রসাদপুর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা ও নানা মতামত ডালপালা গজায়।
জানা গেছে, প্রেমা রাণী দাস (২১) নামে সনাতন ধর্মের এক তরুণী ধর্মান্তরিত হয়ে ইসলাম র্ধম গ্রহণ করেছেন। বর্তমানে তিনি তাঁর নাম লামহা আক্তার স্মৃতি পছন্দ করে রেখেছেন। পরে তিনি স্বেচ্ছায় মুসলিম যুবককে বিয়ে করেছেন।
প্রেমা রাণী দাস জেলার মান্দা উপজেলা সদরের প্রসাদপুর ইউনিয়নের প্রসাদপুর গ্রামের অসিত দাস ও কবিতা রানীর মেয়ে। গত ৩০ জুলাই প্রেমা রাণী দাস রাজশাহী কোর্টে গিয়ে ধর্মান্তরিত হয়ে লামহা আক্তার স্মৃতি নাম ধারণ করে আরমান হোসেন (২৪) নামে এক যুবককে বিয়ে করেন।
আরমান হোসেন একই গ্রামের মোঃ আজাদ আলী ও আদরী, খাতুনের ছেলে। ৩০ জুলাই কোর্টে বিবাহের ঘোষণা দিয়ে তারা এফিডেভিট করেন। ঘোষণায় উল্লেখ করা হয়েছে তারা উভয়ই প্রাপ্তবয়স্ক ও সাবালক। ভালোমন্দ বোঝার ক্ষমতা তাঁদের রয়েছে।
প্রেমা রাণী দাস ধর্মান্তরিত হওয়ার আইনী অধিকার এফিডেভিটে উল্লেখ করেছেন জেনে বুঝে ও স্বজ্ঞানে তিনি হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন এবং নিজেকে বর্তমানে মুসলিম বলে দাবি করেছেন।
ইসলাম ধর্মের রীতি-নীতি, ধর্মীয় বিধি-বিধানে আকৃষ্ট হয়ে গত ৩০ জুলাই কোর্টে ঘোষণা দিয়ে ধর্মান্তরিত হন এবং একই দিনে নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে মুসলিম ছেলের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। পরে ৩০ জুলাই ইমাম সাহেবের হাত ধরে পবিত্র কালেমা পড়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন ও এক লাখ টাকা দেনমোহর ধার্য্য করে রেজিস্ট্রির মাধ্যমে আরমান হোসেনকে বিয়ে করেছেন।
প্রেমা রাণী দাসের সাথে যোগাযোগ করা হলে, তিনি বলেন, অনেক বছর আগে থেকেই আরমান হোসেন আমাদের এলাকায় বসবাস করতো। তখন থেকে তার সাথে আমার পরিচয় হয়। সেই পরিচয় থেকেই আরমান আলীর সাথে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। তারা একে অপরকে ভালোবেসে বিয়ে করেছেন। ধর্মান্তরিত হয়ে ও বিয়ে করার বিষয়ে কোন প্রকার প্ররোচনা করা হয়নি। স্ব-ইচ্ছায়, স্বজ্ঞানে অন্যের বিনা প্ররোচনায় ধর্মান্তরিত হয়ে বিয়ে করেছেন।
আরমান সরাসরি একই কথা জানান, তারা একে অপরকে ভালোবেসে বিয়ে করেছেন। তারা উভয়ে ঘর সংসার করছেন, ভালো আছেন। এ জন্য সবার দোয়া কামনা করেন৷