
চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি আনিছুর রহমান : কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার আলকরা ইউনিয়নের আলকরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত না থেকে ক্লাস ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে তিনি একটি এতিমখানায়ও কর্মরত রয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
অভিযোগের তীর বিদ্যালয়টির সহকারী শিক্ষক সেলিম মিয়ার বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতার দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি আলকরা মোহাম্মদিয়া এতিমখানাতে ও সময় দেন, এতে সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
সম্প্রতি বিদ্যালয় চলাকালীন সময়ে সরেজমিনে গিয়ে সহকারী শিক্ষক সেলিম মিয়াকে বিদ্যালয়ে পাওয়া যায়নি। পরে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ওই সময় তিনি আলকরা মোহাম্মদিয়া এতিমখানায় অবস্থান করছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আলকরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রোকসানা পারভীন প্রথমে সহকারী শিক্ষক সেলিম মিয়া বিদ্যালয়ে উপস্থিত রয়েছেন বলে জানান। তবে পরবর্তীতে তিনি বলেন, সেলিম মিয়া ছুটিতে রয়েছেন এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় দরখাস্ত দাখিল করবেন।
তবে ওই শিক্ষক কী ধরনের ছুটিতে রয়েছেন এবং বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকার বিষয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন রয়েছে কি না—সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের অভিযোগ, সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষক দায়িত্ব পালনের সময় অন্য প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকলে শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি সরকারি দায়িত্ব পালনে শৃঙ্খলার প্রশ্ন দেখা দেয়।
তারা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান বলেন, “বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।