
পলাশবাড়ী(গাইবান্ধা) সংবাদদাতাঃ গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ইদিলপুর ইউনিয়নের রাঘবেন্দ্রপুর লালদিঘী গুচ্ছগ্রামে এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে জীবনপুর গ্রামের আলহাজ্ব এনামুল ইসলামের (এনামুল হাজী) বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
এর আগে গত ৪ আগস্ট সকালে ওই গুচ্ছগ্রামে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে এক নারীসহ এনামুল হাজী জনতার হাতে আটক হন। ঘটনাটি মুহূর্তেই বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
অভিযোগকারী নারী কহিনুরের দাবি, ঘটনার পর তার স্বামী খাইরুল ইসলাম তাকে নিয়ে সংসার করতে অনাগ্রহ প্রকাশ করলে এনামুল হাজী তাকে বিয়ে করতে সম্মত হন। উভয়ের সম্মতিতে বিয়ের সিদ্ধান্তও হয় বলে স্থানীয় ইউপি সদস্য আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন।
তবে অভিযোগকারীর ভাষ্য অনুযায়ী, কাজী ডাকার কথা বলে কয়েকজন ব্যক্তি এনামুল হাজীকে ঘরের বাইরে নিয়ে যান এবং পরে তাকে সেখান থেকে নিয়ে চলে যান। এ ঘটনায় বিষয়টি অর্থের বিনিময়ে মীমাংসার চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেছেন ওই নারী।
লিখিত অভিযোগে কহিনুর উল্লেখ করেন, গত ৪ আগস্ট সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তার স্বামী বাড়ির বাইরে থাকার সুযোগে তিনি গুচ্ছগ্রামের সরকারি ঘরে নাতনিকে নিয়ে অবস্থান করছিলেন। এ সময় পূর্বপরিচিত এনামুল হাজী ঘরে প্রবেশ করে তার সঙ্গে জোরপূর্বক যৌন নির্যাতন করেন বলে তিনি অভিযোগ করেন। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে এনামুল হাজীকে আটক করেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আমিনুল ইসলাম বলেন, “উভয়ের সম্মতিতে বিয়ের সিদ্ধান্ত হয়েছিল। আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম। পরে একটি মহল এনামুল হাজীকে ঘটনাস্থল থেকে নিয়ে যায়।”
এর আগে গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে এনামুল হাজীকে বলতে শোনা যায়, “কি আর করমো, ফেলে দেওয়া যাবি? আমি বিয়ে করমো।”
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে ধাপেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মতিয়ার রহমান বলেন, “লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অভিযোগ দায়েরের পর ঘটনাটি নতুন করে এলাকায় আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয়দের অনেকের প্রশ্ন—যদি বিয়ের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে পরবর্তীতে কেন পুলিশের কাছে ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করা হলো?
অভিযোগের সত্যতা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।