
ঝালকাঠি প্রতিনিধি: ঝালকাঠির পেশাদার তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে বরিশালের কাউনিয়া থানায় ষড়যন্ত্র মূলক হয়রানি ও মিথ্যা মামলা দায়েরের ঘটনা ঘটে। সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র মূলক হয়রানি ও মিথ্যা মামলা দায়েরের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও গভীর প্রতিবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীসহ বিভিন্ন মহল। একই সাথে অবিলম্বে এই মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
ঝালকাঠি জেলায় গনমাধ্যমে কর্মরত তিন পেশাদার সাংবাদিক স্টার নিউজের স্টাফ রিপোর্টার আল-আমিন তালুকদার, দৈনিক আজকের পরিবর্তনের ঝালকাঠি জেলা প্রতিনিধি রিয়াজুল ইসলাম বাচ্চু এবং দৈনিক আজকের পত্রিকার ঝালকাঠি জেলা প্রতিনিধি আরিফুর রহমান রায়হানের বিরুদ্ধে বরিশালের কাউনিয়া থানায় গত ২০ সেপ্টেম্বর ষড়যন্ত্র মূলক হয়রানি ও মিথ্যা মামলা দায়ের করে ( মামলা নম্বর: ১৯, জিআর নং ২১৯) ঝালকাঠি সদর উপজেলাধীন সাবাংগল গ্রামের রাইফুল ইসলাম খান নামের এক যুবক।
এ বিষয় স্টার নিউজের স্টাফ রিপোর্টার সাংবাদিক আল-আমিন তালুকদার জানান, মামলার এজাহারে উল্লেখিত ঘটনার সময় (১৩ সেপ্টেম্বর) তিনি ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। সাংবাদিক আরিফুর রহমান রায়হান বলেন, “১৩ সেপ্টেম্বর মামলার এজাহারে উল্লেখিত সময়ে আমি ঝালকাঠি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে নদীভাঙন রোধের মানববন্ধনের সংবাদ সংগ্রহ ও পেশাগত কাজে ব্যস্ত ছিলাম।” সাংবাদিক রিয়াজুল ইসলাম বাচ্চু জানান, ওই দিন তিনি ঝালকাঠিতেই সংবাদ সংগ্রহের কাজে ব্যস্ত ছিলেন। তাঁরা প্রশ্ন রেখে বলেন, “আমরা ঘটনার দিন বরিশালেই ছিলাম না, তাহলে কীভাবে সেখানে মামলার আসামি হলাম? পুলিশ কোনো ধরনের প্রাথমিক তদন্ত ছাড়াই তড়িঘড়ি করে এই মিথ্যা মামলাটি এজাহারভুক্ত করেছে। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক।”
এ বিষয় সাংবাদিক নেতারা ও ভুক্তভোগীরা নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে মিথ্যা মামলা দাতাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান, যাতে ভবিষ্যতে কোনো নিরীহ মানুষকে এভাবে হয়রানির শিকার হতে না হয়। নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সত্য প্রকাশে বাধাগ্রস্ত করতে এবং সাংবাদিকদের কণ্ঠ রুদ্ধ করতেই একটি কুচক্রী মহল পরিকল্পিতভাবে এই ভিত্তিহীন মামলা দায়ের করেছে। স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর এমন নগ্ন হস্তক্ষেপ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।অবিলম্বে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা এই মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার না করা হলে সাংবাদিক সমাজ বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলতে বাধ্য হবে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়।
এ বিষয় মামলা বাদী রাইফুল ইসলামের মুঠো কল দিলে তিনি জানান, ঘটনার পরেরদিন তিনি ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাংবাদিক পরিচয়দানকারী মোল্লা শাওন নামের এক ব্যক্তি তাকে সার্বিক সহযোগিতা করার কথা বলেন। একই সাথে তিনি ঘটনাটি বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশের কথা এবং পুলিশি সহযোগীতা সহ সার্বিক সহযোগীতা করার কথা বলে আমার নিকট হতে প্রথমে নগদ ১০ হাজার টাকা নেন এবং আমাকে নিয়ে গত ১৩ তারিখ বরিশাল কাউনিয়া থানায় গিয়ে মামলা দায়ের করান। এরপর মামলা দায়ের ও আসামি ধরার কথা বলে আমার নিকট হতে ধাপে ধাপে আরও ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা নেন। মামলায় উল্লেখিত ঝালকাঠির তিনজন ব্যক্তির নাম থাকায় আমি ঝালকাঠি এসে বুঝতে পারি তারা আমার কোন সত্রু নয়। এবং ঘটনার সময় তারা ছিলেন না। বিষয়টি মোল্লা শাওনকে মুঠো ফোনে জানালে তিনি আমাকে উল্টো হুমকি দিয়ে বলেন, তুই আমার কথা না শুনলে তোমাকে আসামীদের দ্বারা উল্টো মামলা দিয়ে জেল খাটাবো।