👁 307 Views

নওগাঁয় ভূয়া প্রতিবন্ধীভাতার কার্ড দেওয়ার অভিযোগে আটক নারী, অতঃপর মুসলেকা দিয়ে ছাড়

নওগাঁ প্রতিনিধি: অবশেষে নওগাঁর মহাদেবপুরে ভূয়া প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড দেওয়ার অভিযোগে আটক নারী জনি আক্তার (২৯) মুসলেকা দিয়ে ছাড় পেয়েছেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় তাকে আটকের পর রাত সাড়ে ১০ টার দিকে ছাড়া পেলেন অভিযুক্ত ওই নারী। এ সময় আগামী ১৫ দিনের মধ্যে টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে লিখিত আপোষনামায় স্বাক্ষর করেছেন তিনি।
লিখিত আপোষনামা সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত জনি আক্তার বিভিন্ন সময়ে ভুক্তভোগীদের কাছে থেকে ৭৬ হাজার ৪০০ টাকা নেন। পরে তিনি তাদের ভাতার কার্ড করে দিতে না পারায় আগামী ১৫ দিনের মধ্যে ভুক্তভোগীদের টাকা তাদের ফেরত দিবেন। তাদের কাছে থেকে নেওয়া টাকা ফেরত না দিলে ভুক্তভোগীরা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে।
মুসলেকা দেওয়া নারী জনি আক্তার উপজেলার ভীমপুর উত্তরপাড়া গ্রামের হামিদুল ইসলামের স্ত্রী।
উল্লেখ্য যে, জনি আক্তার উপজেলার ভীমপুর গ্রামের মোট ১৩ জনের কাছ থেকে প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন সময়ে ৭৮ হাজার ৮০০ টাকা নেন। তাদের কার্ড করে দিতে ব্যর্থ হলে সবার টাকা ফেরত দেওয়া হবে বলেও তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। গত ১৬ আগস্ট ভুক্তভোগীদেরকে ফিঙ্গারপ্রিন্ট দেওয়ার কথা বলে ডেকে নেওয়া হলেও সেখানে নানা অজুহাতে বিষয়টি এড়িয়ে যান তিনি। পরে গত ২০ আগস্ট দুপুর ১২টার দিকে ভুক্তভোগীরা তার বাড়িতে গিয়ে টাকা ফেরত চান। পরে তাদের মধ্যে তিনজনকে ভূয়া প্রতিবন্ধী কার্ড দেন। একপর্যায়ে টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য চাপ দিলে সে তাদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং টাকা ফেরত দেবেন না বলে জানিয়ে বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধমকি দেন। এ ঘটনায় তহমিনা ও রেনুকা বাদী হয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও মহাদেবপুর থানায় পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগ করলে শুক্রবার সন্ধ্যায় অভিযান চালিয়ে জনি আক্তার জুঁইকে আটক করে থানা পুলিশ।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত জনি আক্তার বলেন, আমার দেবরের সাথে আমাদের পারিবারিক দ্বন্দ্ব চলছে সে কারণে সে চক্রান্ত করে ওই মেয়েদের দিয়ে আমাকে ফাঁসিয়েছে। তিনি কারও কাছে টাকা নেননি দাবি করেন। বক্তব্য নেওয়ার পরে প্রতিবেদককে আবারও কল দিয়ে এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ করলে সাংবাদিককে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে বলেন আমিও দল করি।
মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক বলেন, আটকের পর ভুক্তভোগীদের সাথে বসে সে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। এরপর উপস্থিত স্বাক্ষীদের সামনে লিখিত আপোষনামায় স্বাক্ষর করে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *