👁 38 Views

ঘোড়াঘাটে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের মাঝেই অস্বাভাবিক ক্ষোভ বিদ্যুৎ গ্রাহকদের

 

ঘোড়াঘাট প্রতিনিধিঃ-
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট দিনাজপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর রাণীগঞ্জ সাব জোনাল অফিসের দীর্ঘ সময়ের লোডশেডিংয়ের মধ্যেই অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহকরা। তাদের অভিযোগ, দিনে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকলেও চলতি মাসে অনেকের বিল দ্বিগুণ-তিনগুণ বেড়ে এসেছে। এছাড়া পরিশোধিত বিল বকেয়া দেখানো, গ্রাহকের তথ্য ভুল এবং বিলিং-সংক্রান্ত নানা অনিয়মের অভিযোগও উঠেছে।

ঘোড়াঘাট দিনাজপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর রাণীগঞ্জ সাব জোনাল অফিসের গ্রাহকরা জানান, আগে যেখানে মাসিক বিল দুটি বল দুটি ফ্যান একটি ফ্রিজ চালিয়ে বিল আসত ২০০ থেকে ২৫০ টাকা সেখানে এ মাসে বিল আসছে ৭০০ টাকা। অনেকের বিল ১,২০০ থেকে ১,৩০০ টাকার মধ্যে থাকত, সেখানে এবার ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত বিল এসেছে। কেউ কেউ অভিযোগ করেন, কয়েক বছর আগে পরিশোধ করা বিলও নতুন করে বকেয়া দেখানো হয়েছে। নিয়মিত বিকাশে বিল পরিশোধের পরও পরবর্তী মাসে বকেয়া দেখানোর ঘটনাও ঘটছে।

দীর্ঘ লোডশেডিংয়ে জনজীবনের পাশাপাশি কৃষি, ব্যবসা ও স্বাস্থ্যসেবাও ব্যাহত হচ্ছে। ঘোড়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. প্রিয়াঙ্ক কুন্ডু বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় হাসপাতালে ভর্তি রোগী, শিশু ও বয়স্করা চরম দুর্ভোগে পড়ছেন।

এবিষয়ে ঘোড়াঘাট জোনাল অফিসের উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) ফেরদৌস আলম জানান, জুন ও জুলাই মাসে গরম বেশি থাকায় বিদ্যুতের ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় বিল কিছুটা বেশি আসতে পারে।

তবে দীর্ঘ লোডশেডিংয়ের মুখে দ্বিগুণ বিলের ভৌতিক বিল নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি সাব-স্টেশনের ওপর দায় চাপিয়ে বলেন, “বড়পুকুরিয়া ফিডারের আওতাধীন এলাকায় কিছুটা সমস্যা রয়েছে, তবে পলাশবাড়ী ফিডারের দিকের অবস্থা তুলনামূলক ভালো।”

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, সরকারের সঙ্গে চুক্তির ভিত্তিতে বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাগুলো কাজ করে থাকে এবং একটি লক্ষ্যমাত্রাও ধরা থাকে। অর্থবছরের শেষ দিকে এসে সংস্থাগুলো ঘাটতি মেটাতে গ্রাহকদের ওপর বেশি বিল চাপিয়ে দেয়। হয়রানির আশঙ্কা ও প্রতিকার না পাওয়ার হতাশা থেকে অনেক গ্রাহক আপত্তি করেন না। ফলে ভুতুড়ে বিল করেও সংস্থাগুলো মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেয় গ্রাহকদের কাছ থেকে। এটি খুবই উদ্বেগজনক। সংস্থার ঘাটতির দায় গ্রাহকদের ওপর চাপানো, এ কৌশল থেকে সরে আসতে হবে বলে ভুক্তভোগীরা দাবি করেন। ‘ভৌতিক’ বিলের নিরপেক্ষ তদন্ত, ভুল বিল সংশোধন এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য সংম্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *