👁 313 Views

বিরলের আবাদি জমিতে মাছ ধরার ধূম

আতিউর রহমান, বিরল (দিনাজপুর)।। মাছে ভাতে বাঙালী। বাক্যটি একসময় পাঠ্য পুস্তকে পড়েছি অনেকে। সময়ের পরিক্রমায় পাঠ্য পুস্তকে পরিবর্তন এসেছে। অনেকে তথ্যপ্রযুক্তির যুগে ভুলেও যেতে বসেছি পাঠ্য পুস্তকে পড়ে দেখা সেই বাক্যগুলি। কিন্তু গ্রাম বাঙলার সেই অপরূপ দৃশ্য আজও রয়ে গেছে। একসময় গরুর হাল দিয়ে চাষাবাদ করা হতো আবাদযোগ্য জমি। এখন সেগুলো যান্ত্রিক উপায়ে চাষাবাদ করা হচ্ছে। অথচ সেই আগের মতই বাঙালী মেতে উঠেছে মাছ আহরণে। টানা বৃষ্টিপাতে গ্রামের পুকুর, জলাশয় ও আবাদী জমিগুলো এখন টইটুম্বুর। আর এসকল পানিতে অবাধে বিচরণ করছে নানা প্রজাতির দেশীয় মাছ। দলবেঁধে ট্রাক্টরের পিছু পিছু ছুটে দেশীয় প্রজাতির নানারকমের মাছ মিলছে। আর মাছগুলো আহরণে জমির মালিক বাদেও পাড়াপড়শিরা মাছ ধরার উৎসবে মেতেছে।
বিরল উপজেলার ১০ নং রাণীপুকুর ইউনিয়নের বিষ্ণুপুর গ্রামে জনৈক এক ব্যক্তির আবাদি জমিতে দান রোপনের জন্য ট্রাক্টর দিয়ে চাষ দেয়া হচ্ছিল। আর এই চাষের সময় ট্রাক্টরের ধারালো ফাল দিয়ে প্রথমে কয়েকটি ঢেলা (শাটি) মাছ কাটা পড়ে ভেসে উঠে। এ দেখে ঐ এলাকার মোকছেদ আলী মাছ ধরতে ট্রাক্টরের পিছু পিছু ছুটতে থাকেন। ক্ষাণিক পরে আরও কয়েকজন শিশু কিশোর আসেন মাছ ধরতে। এরপরই যে যারমত নেমে পড়েন মাছ ধরতে। ট্রাক্টর চাষ দিতে ছুটে চলেছে, আর পিছু পিছু মাছ ধরতে ছুটছে সবাই। প্রায় অর্ধশতাধিক নারী-পুরুষ, কিশোর-কিশোরী মাছ ধরতে নেমে অন্যরকম এক উৎসবে পরিণত হয় এলাকাটি। আর এভাবেই প্রায়ই মাছের সন্ধানে চাষাবাদের ট্রাক্টরের পিছু ছিটে মাছ আহরণে মনে পড়ে যায় সেই চিরচেনা মাছে ভাতে বাঙালী বাক্যটি।
এলাকার কৃষকেরা জানান, এখন ধান রোপনের মৌসুম। তাই জমি চাষাবাদ করতে হয়। ইরি-বোরো ধান কাটার পর দীর্ঘ সময় জমিগুলো পরে থাকে। আমন ধানের বীজতলা তৈরী হওয়ার পর বীজ বোপন থেকে চারাগাছ উত্তোলনের সময় পর্যন্ত আবাদি জমি গুলোতে পানি থাকায় দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ডিম ছাড়ে এবং বাচ্চা ফুটে বড় হতে থাকে। ধানের চারাগাছ রোপণের পূর্বে তাই চাষাবাদের সময় এই মাছ ধরার উৎসব চলে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *