
স্টাফ রিপোর্টারঃ
প্রেমিকাকে মোবাইল কিনে দিতে অপহরণের নাটক, পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে এলো আসল ঘটনা বাবার নিকট থেকে টাকা আদায় করতে মূলত এই ঘটনা ঘটিয়েছিল রাজশাহীতে।
প্রেমিকাকে নতুন মোবাইল ফোন কিনে দেওয়ার অর্থ জোগাড় করতে নিজের অপহরণের নাটক সাজিয়েছিলেন বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী। পরিবারের কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিত এ নাটক শেষ পর্যন্ত পুলিশের তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর তদন্তে ভেস্তে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ তৃতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী মো. সাব্বির হোসেন বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার পলিমহেশপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং মো. সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে।
পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৮ জুলাই বিকেলে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন সাব্বির। একই দিন রাত ৮টার দিকে তার বাবা দুপচাঁচিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। তিনি জানান, একটি ব্রিলিয়ান্ট (আইপি) নম্বর থেকে ফোন করে তার ছেলেকে মারধরের শব্দ শোনানো হয় এবং তাকে জীবিত ফেরত পেতে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
অভিযোগ পাওয়ার পরপরই দুপচাঁচিয়া থানা পুলিশের একটি বিশেষ টিম তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত শুরু করে। তদন্তে সাব্বিরের অবস্থান রাজশাহী শহরে শনাক্ত হয়। সেখানে অভিযান চালিয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে। পরে জানা যায়, তিনি কোনো অপহরণকারীর কবলে ছিলেন না; বরং নিজেই আত্মগোপনে ছিলেন।
থানায় জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে সাব্বির স্বীকার করেন, প্রেমিকাকে নতুন মোবাইল ফোন কিনে দেওয়ার জন্য অর্থের প্রয়োজন হওয়ায় তিনি নিজেই অপহরণের নাটক সাজিয়েছিলেন। ব্রিলিয়ান্ট অ্যাপের নম্বর ব্যবহার করে বাবার কাছে ফোন দিয়ে মুক্তিপণ দাবি করেন এবং মারধরের অভিনয়ও করেন।
দুপচাঁচিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাজমিলুর রহমান জানান, জিজ্ঞাসাবাদে শিক্ষার্থী তার ভুল স্বীকার করেছেন। এ ঘটনায় পুরো পরিবার চরম দুশ্চিন্তার মধ্যে পড়েছিল। নিজের ভুল উপলব্ধি করায় এবং পরিবারের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় কাউন্সেলিং শেষে তাকে তার বাবার জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে।নিজেই ভুল স্বীকার করাই তার বাবার হাতে সপদ্দ করা হয়েছে।