
নওগাঁ প্রতিনিধি: \নানা বাড়িতে বেড়াতে এসে লাশ হয়ে ঘরে ফিরলো ছয় মাস বয়সী অবুঝ শিশু মুসফিকা জান্নাত। বন্যশূকরের সাথে অটোভ্যানের সংঘর্ষে গুরুতর আহত হয়ে প্রাণ গেল ৬ মাস বয়সী ওই শিশুটির।
উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নেয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়। ছোট্ট এ শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যুতে তার পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
আজ রোববার (৫ জুলাই’২৬) সকালে উপজেলার সারাইগাছি ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক জাতিগোষ্ঠীর এক খামারের সামনের ব্রিজ এলাকায় শূকরের পালের কবলে পড়ে শিশুটিকে বহনকারী অটোভ্যানটি উল্টে যায়। এতে মুসফিকার মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে।
তাকে উদ্ধার করে প্রথমে পোরশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় চিকিৎসকরা তাকে দ্রুত রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পরামর্শ দেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী নেয়ার পথেই তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।
এদিকে, চোখের পলকে অবুঝ শিশুটিকে হারানোর শোকে পাথর হয়ে গেছেন মা ফাতেমা।
খুলনার বাগেরহাট থেকে পোরশার সোহড়ন্দ গ্রামে মায়ের বাড়িতে বেড়াতে এসে এ মা আজ সন্তান হারিয়ে দিশেহারা। তার আহাজারি আর বুকফাটা আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠেছে এলাকার আকাশ-বাতাস।
অন্যদিকে, শিশু মুসফিকার এমন মৃত্যুতে স্থানীয় সচেতন মহলের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় কোনো নিয়ন্ত্রণহীনভাবে বন্যশূকরের পাল বিচরণ করছে। রাস্তাঘাট এবং জনবসতিপূর্ণ এলাকায় এই প্রাণীগুলোর অবাধ বিচরণ প্রায়ই দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। কিন্তু স্থানীয়ভাবে বারবার অভিযোগ জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নেয়ায় প্রাণ দিতে হলো একটি নিষ্পাপ শিশুকে।
স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “শূকরের এমন অবাধ বিচরণ ও অনিয়ন্ত্রিত পাল লালন পালন জনজীবনের জন্য চরম হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা অবিলম্বে প্রশাসনকে অনুরোধ করছি, এলাকায় জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং এই ধরণের প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা রোধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। যেন আর কোনো মায়ের বুক এভাবে খালি না হয়।”
বর্তমানে মুসফিকার লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরিবার ও এলাকাবাসী এখন এই মর্মান্তিক ঘটনার জন্য দায়ীদের চিহ্নিত করে শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।