👁 26 Views

শিক্ষিকাকে উত্ত্যক্তের অভিযোগে শিক্ষকের বিরুদ্ধে মানববন্ধন, শোকজ করল কর্তৃপক্ষ

  নওগাঁর প্রতিনিধি:  নওগাঁর মান্দা উপজেলার পরানপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (গণিত) জিয়াউর রহমান জিয়ার অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও স্থানীয় এলাকাবাসী। রোববার (২১ জুন) সকাল সাড়ে ১১টায় বিদ্যালয়ের মূল ভবনের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনের আগে শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর অংশগ্রহণে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে পরানপুর ইউপির গোপালপুর বাজারের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তারা অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে ধরে দ্রুত তার অপসারণের দাবি জানান।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, সহকারী শিক্ষক জিয়াউর রহমান জিয়া দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের কতিপয় শিক্ষার্থীদের বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করে আসছেন।
সম্প্রতি তিনি একই বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষিকাকে কুপ্রস্তাব দেওয়া, উত্ত্যক্ত করা এবং যৌন হয়রানির মতো কর্মকাণ্ডে জড়িত হন বলে অভিযোগ উঠেছে। কয়েকদিন আগে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থীদের সামনেই ওই শিক্ষিকার হাত ধরে টানাহেঁচড়া করার ঘটনাও ঘটে বলেও দাবি করেন তারা।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষিকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিদ্যালয়ের সভাপতি আক্তার জাহান সাথী সহ মান্দা থানায় একটি  লিখিত অভিযোগ করেছেন।
তবে অভিযোগের পরপর অভিযুক্ত শিক্ষক প্রচণ্ড আক্রোশে  ক্ষিপ্ত হয়ে বিভিন্নভাবে ওই শিক্ষিকাকে নানাভাবে সুযোগ বুঝে হুমকি-ধামকী দিতে থাকেন বলেও মানববন্ধনে জোরালোভাবে দাবি করা হয়োছে।
এ বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে গত বৃহস্পতিবার স্থানীয়রা বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রতিবাদ জানান। তবে তাদের উপস্থিতির খবর পেয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক ততক্ষণে কৌশলে বিদ্যালয় থেকে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ ওঠে।
মানববন্ধনে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীরা “জিয়া তোমার ঠিকানা, এই স্কুলে হবে না”, “জিয়া তোমার আস্তানা, এই স্কুলে হবে না”, “জ্বালরে জ্বালো, আগুন জ্বালো”সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। বক্তারা বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষককে দ্রুত অপসারণ করে বিদ্যালয়ের সুষ্ঠু শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত শিক্ষক জিয়াউর রহমান জিয়ার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
ভুক্তভোগী শিক্ষিকার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল ওয়াহেদ আলী জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতির নির্দেশনায় অভিযুক্ত শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) প্রদান করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিদ্যালয়ের সভাপতি আক্তার জাহান সাথী বলেন, “অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রাথমিকভাবে ওই শিক্ষককে শোকজ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তিনি লিখিত জবাব দেওয়ার পর বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *