
নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর: রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার লোহানীপাড়া ইউনিয়নের মাদাই খামার গ্রামের সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে দায়ের করা কথিত মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এলাকাবাসী।
শনিবার অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মামলার বিবাদীপক্ষের প্রতিনিধিরা। তারা অভিযোগ করেন, গত ৮ জুন মাদাই খামার গ্রামে এক নারীকে সঙ্গে নিয়ে ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সাজ্জাদুল মিয়াকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পান স্থানীয় কয়েকজন গ্রামবাসী। বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে সামাজিক অবক্ষয় রোধের লক্ষ্যে স্থানীয়ভাবে আলোচনা করে গভীর রাতে কাজীর মাধ্যমে তাদের বিয়ে সম্পন্ন করা হয় বলে দাবি করেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ওই ঘটনার জের ধরে গত ১২ জুন সাজ্জাদুল মিয়া চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ২-৩ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় উল্লেখিত অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন বক্তারা।
তাদের অভিযোগ, যাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে তারা কেউই কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নন। বরং সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে ঘটনাটির প্রতিবাদ করায় প্রতিহিংসাবশত তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, মামলার তদন্তে দায়িত্বপ্রাপ্ত এক পুলিশ কর্মকর্তা বাদীপক্ষের প্রভাবের কারণে নিরপেক্ষ তদন্ত না করে মামলা রেকর্ডে ভূমিকা রেখেছেন। এতে এলাকায় আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।
বক্তারা বলেন, “আমরা শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে চাই। নিরপরাধ মানুষকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। প্রশাসনের কাছে আমাদের একমাত্র দাবি হলো, প্রকৃত ঘটনা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে নিরপরাধ ব্যক্তিদের হয়রানি থেকে মুক্তি দেওয়া হোক।”
এছাড়াও সংবাদ সম্মেলনে তারা বলেন, এই সাজ্জাদুল মিয়া ভাসমান বিএনপি সেজে এলাকায় ব্যাপক অনিয়ম করে যাচ্ছে। তার বিরুদ্ধে নদী থেকে বালু উত্তোলন, সরকারি রাস্তায় শতাধিকের উপর গাছ কর্তন করা সহ বিভিন্ন ধরনের অনিয়মের একাধিক সত্যতা রয়েছে। বর্তমান সাজ্জাদুল মিয়া বিএনপির প্রভাব খাটিয়ে এলাকার মানুষকে অশান্ত করার জন্য ভয়ভীতি প্রদর্শন করাচ্ছেন।
সংবাদ সম্মেলন থেকে এলাকাবাসী দায়েরকৃত মামলার সুষ্ঠু তদন্ত, কথিত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। একই সঙ্গে তারা সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।