
এস,আর শরিফুল ইসলাম রতন, লালমনিরহাট। বিল্ডিং কোড অমান্য করে ও অপরিকল্পিতভাবে বহুতল ভবন নির্মাণের জেরে লালমনিরহাটে জেলা পরিষদের মালিকানাধীন ডাকবাংলার প্রায় ১৫০ ফুট দীর্ঘ সীমানা প্রাচীর ধসে পড়েছে। এই ঘটনায় প্রাচীরের ভেতরে থাকা একটি নবনির্মিত ড্রেন ভেঙে গেছে এবং পার্শ্ববর্তী বিএনপি কার্যালয় ও জেলা পরিষদ মার্কেট চরম ঝুঁকিতে পড়েছে। সরকারি সম্পত্তির এই বিপুল ক্ষয়ক্ষতির মুখে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে ৩৫ লক্ষ টাকার ক্ষতিপূরণ নোটিশ পাঠিয়েছে জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষ।
ঘটনার বিবরণ ও পটভূমি
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লাল মিয়া নামের এক প্রভাবশালী ব্যক্তি বিল্ডিং কোড অনুসরণ না করে এবং জেলা পরিষদের কিছু জায়গা অবৈধভাবে দখল করে সীমানা প্রাচীর সংলগ্ন এলাকায় একটি বহুতল ভবন নির্মাণ করছিলেন। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে এই নির্মাণকাজ চলায় প্রাচীরটি আগেই মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছিল।
ঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনা করে গত ১ জুন জেলা পরিষদ অফিস থেকে লাল মিয়াকে ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করে একটি সতর্কীকরণ চিঠি দেওয়া হয়েছিল। তবে তিনি সেই চিঠির তোয়াক্কা না করে ক্ষমতার জোরে নির্মাণকাজ চালিয়ে যান। এরই জেরে গত রাতে সীমানা প্রাচীরটির একটি বড় অংশ ধসে পড়ে।
বর্তমান পরিস্থিতি ও ঝুঁকি
সরেজমিনে পরিদর্শনে দেখা গেছে, ধসে পড়া প্রাচীরের বিপরীত পাশে থাকা স্থানীয় বিএনপি কার্যালয়ের দেয়াল এবং ভাঙন সংলগ্ন জেলা পরিষদ মার্কেটের একটি অংশ এখন অত্যন্ত বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে। যেকোনো মুহূর্তে এগুলো ধসে পড়ে বড় ধরনের প্রাণহানি বা দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীরা।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
লালমনিরহাট জেলা পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী রাশেদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান:
”প্রাচীরটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকার সময়ই আমরা আইনগতভাবে ক্ষতিপূরণ ও কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছিলাম। কিন্তু অভিযুক্ত লাল মিয়া তাতে ভ্রুক্ষেপ না করায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। সরকারি সম্পত্তির এই বিপুল ক্ষয়ক্ষতির কারণে আমরা এখন ৩৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে তাকে আরেকটি চূড়ান্ত চিঠি দিচ্ছি।”
স্থানীয় সচেতন মহল অবিলম্বে এই অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ নির্মাণকাজ বন্ধ করার এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।