👁 210 Views

বাংলাদেশ মহিলা সমিতিতে কণ্ঠশীলনের ‘শ্রুতি সমাহার’

শারমিন ইসলাম ।। গত ২৭ অক্টোবর বাংলাদেশ মহিলা সমিতির ড. নীলিমা ইব্রাহিম মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে আবৃত্তি সংগঠন কণ্ঠশীলনের একগুচ্ছ আবৃত্তি প্রযোজনা ‘শ্রুতি সমাহার’। এ আয়োজনে চারটি ভিন্নধর্মী সাহিত্যকর্মকে আবৃত্তি ও শ্রুতিনাট্যের শিল্পিত উপস্থাপনায় একসূত্রে গাঁথার প্রয়াস নেওয়া হয়। প্রযোজনাগুলো হলো ‘সময়ের প্রয়োজনে’, ‘আমার এই মাটির গান’, ‘পরের উপকার করিও না’ ও ‘আক্কেল গুড়ুম’।

চারটি প্রযোজনার মধ্য দিয়ে উঠে আসে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, সময়ের দাবি, স্বদেশ ও শিকড়ের প্রতি ভালোবাসা, মানুষের উপকার করতে গিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি এবং সমাজের নানা অসংগতির ব্যঙ্গাত্মক চিত্র। আবৃত্তি ও শ্রুতিনাট্যের সমন্বয়ে সাজানো পরিবেশনা গুলোতে সাহিত্য, কণ্ঠশীলন ও নাট্যভাবনার বৈচিত্র্য ফুটে ওঠে।

অনন্যা গোস্বামীর নির্দেশনায় জহির রায়হানের রচনা ‘সময়ের প্রয়োজনে’ প্রযোজনাটিতে ঐতিহাসিক দায়িত্ববোধ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং সময়ের অনিবার্য আহ্বানকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। এতে অংশগ্রহণ করেন অনন্যা গোস্বামী, অনুপমা আলম, মারিয়া কিবতিয়া, কাজী সিরাজুম মুনিরা যুথি ও দীপক বিশ্বাস।

নুরুজ্জামান নান্নুর গ্রন্থনা ও নির্দেশনায় ‘আমার এই মাটির গান’ প্রযোজনায় ফুটে ওঠে বাংলার মাটির সোঁদা গন্ধ, স্বদেশের প্রতি গভীর আকুলতা এবং শিকড়ের টানে ফিরে যাওয়ার আবেগ। মাটি ও মানুষের সঙ্গে আত্মিক সম্পর্কের অনুভবকে কেন্দ্র করে নির্মিত এ পরিবেশনায় অংশ নেন রাজিয়া সুলতানা মুক্তা, মিনহাজুল বশির শোভন, নিবিড় রহমান, রাবেয়া হক, তাসনিম ইসলাম দ্যুতি ও পারভিন আফরোজা আইভি।

নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের গল্প অবলম্বনে ‘পরের উপকার করিও না’ প্রযোজনাটি নির্দেশনা দেন নিবিড় রহমান। মানুষের খ্যাতির লোভ, অতিরঞ্জিত আত্মপ্রচেষ্টা এবং উপকার করার নামে সৃষ্ট অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি ও বিড়ম্বনাকে কেন্দ্র করে নির্মিত এ পরিবেশনায় হাস্যরসের মধ্য দিয়ে মানবচরিত্রের নানা দিক তুলে ধরা হয়। এতে অংশ নেন নুরুজ্জামান নান্নু, আফরিন খান, শেখ সাজ্জাদুর রহমান, মারিয়া কিবতিয়া ও মো. আল মামুন সিদ্দিক।

অন্যদিকে আবদুশ শাকুরের রচনা অবলম্বনে ‘আক্কেল গুড়ুম’ প্রযোজনাটির শ্রুতিনাট্যরূপ ও নির্দেশনা দেন রইস উল ইসলাম। ব্যঙ্গ, তীক্ষ্ণ রসবোধ ও সামাজিক অসংগতির চিত্রায়ণে সাজানো এ পরিবেশনা দর্শকদের সামনে সমাজের পরিচিত নানা প্রবণতাকে নতুনভাবে তুলে ধরে। এতে অংশগ্রহণ করেন রইস উল ইসলাম, অপরেশ সাহা, মো. আবদুল কাইয়ুম, তানজিনা খান লিজা ও মোহাম্মদ আবদুল আল মামুন।

‘শ্রুতি সমাহার’-এর বিশেষত্ব ছিল বিষয়বৈচিত্র্যপূর্ণ চারটি সাহিত্যকর্মকে একই আয়োজনে উপস্থাপন। একদিকে দেশপ্রেম, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতা, অন্যদিকে শিকড়ের প্রতি টান, মানবিক আচরণের জটিলতা এবং সমাজের অসংগতির প্রতি ব্যঙ্গাত্মক দৃষ্টিভঙ্গি, সব মিলিয়ে আয়োজনটি আবৃত্তি ও শ্রুতিনাট্যের বহুমাত্রিক প্রকাশের একটি প্রয়াস হয়ে ওঠে।

সাহিত্যকে কণ্ঠের শিল্পে রূপান্তর করে শ্রোতার অনুভূতি ও চিন্তায় পৌঁছে দেওয়ার এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে কণ্ঠশীলন আবৃত্তি ও শ্রুতিনাট্যচর্চার বৈচিত্র্যময় ধারাকে তুলে ধরেছে।