
এম সাজেদুল ইসলাম (সাগর) নবাবগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: সবুজ পাতার ফাঁকে যেন বিছিয়ে রাখা হয়েছে লাল চাদর। দিনাজপুরের বিরামপুর-নবাবগঞ্জ সড়কের ছোট মহেশপুর গ্রাম সংলগ্ন নয়নজলিতে (রাস্তার ধারের জলাশয়) সারি সারি লাল শাপলার এমন মনকাড়া দৃশ্য প্রতিদিন মুগ্ধ করছে পথচারীদের। যান্ত্রিক জীবনের ক্লান্তি ভুলে পথের ধারে ফুটন্ত শাপলার এই সমাহার দেখতে এবং কিছুটা সময় প্রশান্তি পেতে থমকে দাঁড়াচ্ছেন অনেকেই। স্থানীয় একদল তরুণের ব্যতিক্রমী ও নান্দনিক উদ্যোগের কারণেই আজ এই নয়নজলিটি দৃষ্টিনন্দন এক স্পটে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন বছর আগে ছোট মহেশপুর গ্রামের কয়েকজন যুবক মিলে যৌথ উদ্যোগে নয়নজলির পানির ওপর অলস সময় কাটানো ও বিশ্রামের জন্য বাঁশ দিয়ে একটি চমৎকার ‘টং’ ঘর বা বসার স্থান তৈরি করেন। পরবর্তীতে সেই স্থানের সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে তুলতে তারা জলাশয়ের পানিতে লাল শাপলার চারা রোপণ করেন এবং নিয়মিত এর দেখভাল শুরু করেন। যুবকদের সেই যত্নে দিন দিন বাড়তে থাকে শাপলার পরিধি।
উদ্যোক্তা যুবকেরা জানান, সাধারণত শাপলা ফুল একটি নির্দিষ্ট ঋতুতে ফুটলেও এখানে বছরজুড়েই লাল শাপলার দেখা মেলে। বর্ষাকালে বৃষ্টির পানিতে নয়নজলিটি যেমন টইটম্বুর থাকে, তেমনি শুষ্ক মৌসুমে আশপাশের ইরি-বোরো ক্ষেতের সেচের পানি এসে একে সজল রাখে। ফলে বছরের কোনো সময়ই জলাশয়টি শুকায় না এবং লাল শাপলাও তার সৌন্দর্য ধরে রাখে।
মাজেদুল ইসলাম সাগর নামের এক পথচারী জানান, “ব্যস্ত সড়কের পাশে সাধারণত এমন শাপলার সমাহার সচরাচর চোখ পড়ে না। যাতায়াতের পথে এখানে দাঁড়িয়ে একটু জিরিয়ে নিলে আর শাপলা ফুলের সৌন্দর্য দেখলে মনটা জিরিয়ে যায়। গ্রামের যুবকদের এই ব্যতিক্রমী চিন্তাভাবনা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার।”
ব্যস্ত সড়কের পাশে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ধরে রাখার পাশাপাশি পথচারীদের বিনোদন ও বিশ্রামের সুযোগ করে দেওয়া ছোট মহেশপুর গ্রামের এই তরুণদের উদ্যোগটি এখন পুরো এলাকায় এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে।