👁 377 Views

মৃত্যুর দুই বছর পর ‘বিয়ে’, নিকাহনামা নিয়ে প্রশ্ন

পলাশবাড়ী (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি:গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে মৃত্যুর দুই বছর পর মো. মতিয়ার রহমান নামের এক যুবকের বিয়ে পুনরায় নিবন্ধনের অভিযোগ উঠেছে এক নিকাহ রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় একই বিয়ের তারিখ নিয়ে দুটি নিকাহনামা ও রেজিস্ট্রেশনের তথ্য সামনে আসায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

তারাপুর ইউনিয়ন পরিষদের দেওয়া মৃত্যুসনদ অনুযায়ী, মতিয়ার রহমান ২০২৪ সালের ১৭ এপ্রিল গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তারাপুর ইউনিয়নের লাটশালা গ্রামের নায়েব আলীর মেয়ে শারমিন আক্তারের সঙ্গে পারিবারিকভাবে মতিয়ারের বিয়ে হয়েছিল। মতিয়ারের মৃত্যুর পর শারমিন অন্যত্র বিয়ে করেন।

মতিয়ারের বাবা হোসেন আলীর অভিযোগ, ছেলের আগের বিয়ের নিকাহনামার নকল কপি নিতে তিনি সংশ্লিষ্ট নিকাহ রেজিস্ট্রার আব্দুল হাইয়ের কাছে যান। কিন্তু পুরোনো নথি থেকে নকল কপি দেওয়ার পরিবর্তে আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে ২০২৬ সালের ৮ আগস্ট মৃত মতিয়ার ও শারমিনের বিয়ে নতুন করে নিবন্ধন করা হয়।

হোসেন আলী বলেন, বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর সমালোচনার মুখে নিকাহ রেজিস্ট্রার ২০২৪ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি তারিখ উল্লেখ করে আরেকটি নকল কপি দেন।

তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে ২০২৪ সালে মারা গেছে। শারমিনের সঙ্গে তার পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়েছিল। আমি শুধু আগের বিয়ের একটি কপি নিতে গিয়েছিলাম। অথচ কাজী টাকা নিয়ে ২০২৬ সালে এসে নতুন করে বিয়ে নিবন্ধন করেছেন।’তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নিকাহ রেজিস্ট্রার আব্দুল হাই। তিনি বলেন, ‘মৃত মতিয়ার রহমানের বিয়ে ২০২৬ সালের ৮ আগস্ট নতুন করে নিবন্ধনের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমি কারও কাছ থেকে কোনো অর্থ নিয়ে এমন কাজ করিনি। আমার রেজিস্টারে নিয়ম অনুযায়ী সব তথ্য সংরক্ষিত আছে। নথিপত্র যাচাই করলেই প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।’

একই বিয়ের ক্ষেত্রে ২০২৪ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি ও ২০২৬ সালের ৮ আগস্ট—দুটি ভিন্ন তারিখের নিকাহনামা ও রেজিস্ট্রেশনের তথ্য পাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে মূল রেজিস্টার যাচাই ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন মতিয়ারের বাবা।

তারাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বলেন, মতিয়ার ২০২৪ সালে মারা গেছেন। তার পরিবার ইউনিয়ন পরিষদ থেকে মৃত্যুসনদও নিয়েছে।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইফফাত জাহান তুলি বলেন, ‘নিয়মবহির্ভূত এমন কোনো কাজ করার সুযোগ নেই। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *