👁 463 Views

বেওয়ারিশ কুকুরের আতঙ্কে শার্শা উপজেলায় দুই মাসে কামড়ের শিকার ছয় শতাধিক

আব্দুল মান্নান, শার্শা (যশোর) থেকে ॥ ঘর থেকে বের হলেই আতঙ্ক, রাস্তায় পা রাখলেই কুকুরের তাড়া। কোথাও একা শিশু দেখলেই পিছু নিচ্ছে, আবার কোথাও দলবেঁধে হঠাৎ ঝাঁপিয়ে পড়ছে মানুষের ওপর। বেওয়ারিশ কুকুরের এমন ভয়ংকর উপদ্রবে আতঙ্কিত যশোরের শার্শা উপজেলার বাসিন্দারা। গত দুই মাসে কুকুরের কামড়ে শিশুসহ প্রায় ছয় শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। আক্রান্তদের ভিড় বাড়ছে হাসপাতালে। দ্রুত কুকুরের উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি স্থানীয়দের। শার্শা ও বেনাপোল পৌরসভা এলাকায় ব্যাপক হারে বেড়েছে বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব। প্রতিদিন এসব কুকুরের তাড়া ও আক্রমণের আশঙ্কায় আতঙ্ক নিয়ে চলাচল করছেন এলাকার সাধারণ মানুষ। গত দুই মাসের ব্যবধানে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শিশুসহ প্রায় ৬ শতাধিক মানুষকে আক্রান্ত করেছে বেওয়ারিশ কুকুর। বর্তমানে একপ্রকার কুকুর আতঙ্ক বিরাজ করছে পুরো উপজেলায়। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরাও রাস্তা দিয়ে যেতে ভয় পাচ্ছে। প্রতিনিয়ত স্কুলে যাওয়া শিশুদের তাড়া করছে কুকুর। কুকুরের ভয়ে অনেকে মা-বাবা ছাড়া স্কুলে যেতেও ভয় পাচ্ছে। উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার হাটবাজার, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সড়কের মোড়ে মোড়ে ১৫-২০টি কুকুর দলবেঁধে ঘুরতে দেখা যাচ্ছে। সাধারণ মানুষের অভিযোগ, দীর্ঘদিন সরকারিভাবে বেওয়ারিশ কুকুর নিয়ন্ত্রণে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় দিন দিন বেড়েই চলেছে কুকুরের সংখ্যা। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উপজেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন স্থানীয়রা। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা কুকুরের কামড়ে আহত রোগীরা জানান, এলাকায় কুকুরের উৎপাত অনেক বেড়ে গেছে। বিশেষ করে গ্রামের দিকে কুকুরগুলো মানুষকে, এমনকি ছোট বাচ্চাদেরও আক্রমণ করছে। আমাকেও একটি কুকুর কামড় দিয়েছে, তাই ভ্যাকসিন নেওয়ার জন্য হাসপাতালে এসেছি। শুধু আমাকে নয়, আশপাশের বিভিন্ন গ্রামের অনেক মানুষকেও কুকুরে কামড়ানোর ঘটনা ঘটছে। এলাকার সাধারণ মানুষের দাবী প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে এলাকায় কুকুরের উৎপাত নিয়ন্ত্রণ করুক। শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৌফিক পারভেজ বলেন, ‘গত দুই মাসে কুকুরের কামড়ে আহত হয়ে অনেক রোগী হাসপাতালে এসেছেন। আমরা সবাইকে প্রাথমিক চিকিৎসা ও সরকারিভাবে সরবরাহকৃত ভ্যাকসিন দিয়ে যাচ্ছি। কুকুরে কামড়ালে অবহেলা না করে দ্রুত হাসপাতালে আসা উচিত। এছাড়া আক্রান্ত স্থানটি অন্তত ১৫ মিনিট ক্ষারযুক্ত সাবান দিয়ে ধুলে ভাইরাসের তীব্রতা অনেক কমে যায়।’ হাসপাতালে ভ্যাকসিনের কোনো সংকট নেই বলেও নিশ্চিত করেন তিনি। শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফজলে ওয়াহিদ বলেন, বেওয়ারিশ বা পাগলা কুকুর কামড়ালে জলাতঙ্ক হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই পোষা কুকুরকে নিয়মিত টিকা দেওয়ার পাশাপাশি অপরিচিত কুকুর থেকে সাবধান থাকার পরামর্শ দেন তিনি। আক্রমণাত্মক কুকুরের ভয়ে মানুষ এখন ঘর থেকে বের হতেও ভয় পাচ্ছে। শিশুরা স্কুলে যেতে পারছে না। দলবদ্ধ কুকুরগুলো হঠাৎ করে গ্রামে ঢুকে মানুষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ছে। এলাকাবাসী জানান উপজেলা প্রশাষনের নিকট অভিযোগ দিয়েও কোন কাজ হয়নি। সরকারী ভাবে বেয়ারিশ কুকুরগুলোকে ভ্যাকসিন দেওয়া হয় তাহলে মানুষকে কামড়ালেও রোগীর জলাতাঙ্ক হওয়ার ভয় থাকবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *