👁 228 Views

ভোলায় নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে মা ইলিশ শিকারের মহোৎসব

ভোলা প্রতিনিধি : ভোলার ৭ উপজেলায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে মা ইলিশ শিকার মহোৎসব, মজুত ও পাচারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ম্যানেজ করে একটি অসাধু চক্র নদীতে অবাধে মা-ইলিশ শিকার ও পাচার করছে। প্রতিটি উপজেলার প্রায় মাছ ঘাটে প্রতিদিন সকাল-বিকাল হাক-ডাক দিয়ে মা ইলিশ বেচা কেনা চলছে। রবিবার (২৫ অক্টোবর) সকালে সদরের জংশন, পুর্বইলিশা, কাঠির মাথা, নাছির মাঝি, তুলাতুলি, ভোলার খালসহ প্রায় ঘাটে লাখ লাখ টাকার মা-ইলিশ মাছ বেচা কেনা চলতে দেখা গেছে। স্থানীয় জেলেদের সথে আলাপ করে জানাগেছে,২৯ অক্টোবর মা-ইলিশ ধরার উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হওয়ার কথা থাকলেও ২৫ অক্টোবর থেকে নিষেধাজ্ঞা শেষ ঘোষনা দিয়ে একটি চক্র প্রশাসনের সামনেই মাছ শিকার করে অবাধে বিক্রি করছে।
সকালে চরফ্যাশনের কুকরী-মুকরী থেকে প্রায় ৮ বস্তা মা ইলিশ জব্দ করে দক্ষিণ আইচা থানা পুলিশ। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করেনি তারা।
দক্ষিণ আইচা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আহসান কবির মাছ জব্দের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বিষয়টি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। কিছুক্ষনের মধ্যে মাছ গুলো গায়েব হয়ে যায়। একইদিন হাজারীগঞ্জ ইউনিয়নের খজুরগাছিয়া এলাকায় বরফভর্তি একটি গাড়ি আটক করেন স্থানীয় লোকজন। খবর পেয়ে শশীভূষণ থানা পুলিশ গাড়িটি জব্দ করে। স্থানীয়দের অভিযোগ,নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে নদী থেকে শিকার করা ইলিশ বিভিন্ন জেলায় পাচারের উদ্দেশ্যে গাড়িটি আনা হয়েছিল।
এদিকে, মেঘনা নদীর ডাকাতিয়া মহনা থেকে কুকরী-মুকরীর দক্ষিণ পাশ পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকায় মা ইলিশ নিধনের মহোৎসব চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে, স্প্রিটবোট যোগে গলাচিপা দিয়ে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় ইলিশ পাচার করা হচ্ছে। এ ছাড়া, মেঘনা এবং বঙ্গোপসাগরের কুল ঘেঁষে বিচ্ছিন্ন চর কুকরী মুকরী ইউনিয়নের অনেকের বাড়িতে বড় বড় ডিভ ফ্রিজে ইলিশ মজুত এবং কেটে লবণ দিয়ে সংরক্ষণের অভিযোগও পাওয়া গেছে।
স্থানীয়রা জানান, ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে মাহফুজ, মঞ্জু বকস, মাহাবুব বকস ও আব্বাস বকসের নেতৃত্বে শতাধীক জেলে মাছ শিকার করছেণ। অভিযোগের বিষয়ে মাহফুজ বলেন, এখানে প্রশাসনকে ম্যানেজ করে কিছু জেলে নদীতে মাছ শিকার করছে, এটা সত্য, তবে আমি এই ঘটনার সাথে জড়িত নই। তিনি নিশ্চিত করে বলেন, মাছ ধরার বিষয়টি মঞ্জু, আব্বাস ও মাহাবুব বকস জড়িত।

এ বিষয়ে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহান্মদ দেলোয়ার হোসাইন মা ইলিশ ধরার সাথে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে বলেন,জনবল কমের মধ্যদিয়েও আমরা সরকারের নির্দেশ বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ কাজ করার চেষ্টা করছি। তবে পুজার মধ্যে অভিযানে একটু গাফলতির কথা ম্বিকার করেন তিনি।
মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করা এবং ইলিশের বংশবিস্তার রক্ষায় ২২দিনের নিষেধাজ্ঞা আমরা কঠোর ভাবে পালন করছি এবং সরকারের বেধে দেয়া ইলিশ উৎপাদনের লক্ষ্য মাত্রার চেয়েও আগামীতে আরো বেশী ইলিশ উৎপাদনের আশা প্রকাশ করেন এই কর্মকর্তা।
মা-ইলিশ রক্ষায় উপকূলীয় জেলা ভোলার ৭ উপজেলায় মেঘনা ও তেতুলিয়া নদীতে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত অভিযান জোরদার, মা-ইলিশ শিকার ও পাচারের সাথে জড়িতদের শনাক্ত করে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় জনগন।