👁 199 Views

পদ্মা ব্যারেজ বাস্তবায়িত হলে সুফল পাবে ৭ কোটি মানুষ : ২০২৭ সালের শুরুতে প্রথম পর্যায়ের কাজের উদ্বোধন ———–পাবনায় পানিসম্পদমন্ত্রী

বার্তা সংস্থা পিপ (পাবনা) : পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের প্রায় সাত কোটি মানুষ সুফল পাবেন বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। আগামী বছরের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের কাজের উদ্বোধনের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে কৃষি, সেচ, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও পানি ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক পরিবর্তনের পাশাপাশি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলসহ দেশের বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে পাবনার সুজানগর উপজেলার সাতবাড়িয়া কাঞ্চনপার্ক এলাকায় পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প পরিদর্শন শেষে আয়োজিত কারিগরি আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পানিসম্পদমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, পদ্মা ব্যারেজ দেশের অন্যতম বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্প। এর সুফল দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলসহ বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ ভোগ করবেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছেন। নির্বাচনের আড়াই মাসের মাথায় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ে ৩৫ হাজার কোটি টাকা এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে ৫০ থেকে ৫৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।
তিনি আরও বলেন, পদ্মাপাড়ের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙন, বন্যা ও প্রকৃতির নানা প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে আসছেন। এসব এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, কৃষির বিকাশ এবং দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির কথা বিবেচনায় নিয়েই পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সরকার এ প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ করবে।
পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ২০০৪ সালে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। সে সময় ২০১৬ সালের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার আশা করা হয়েছিল। দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত এ প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের সমন্বয়ে কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
সভায় পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের পরিচালক হাসান মাহমুদ বলেন, পাবনার সুজানগর থেকে রাজবাড়ী জেলার সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পাবনা, রাজবাড়ীসহ দেশের মোট ১৯টি জেলার কৃষি, সেচ, পানি ব্যবস্থাপনা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, পদ্মা ব্যারেজ নির্মিত হলে বছরে প্রায় আট মাস বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি ঈশ্বরদীর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্যও এ প্রকল্প ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। বর্ষা মৌসুমে ব্যারেজের ৭৮টি গেট খোলা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে পানিপ্রবাহ ব্যবস্থাপনা আরও সহজ ও কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রকল্প পরিচালক আরও বলেন, পদ্মা ব্যারেজ বাস্তবায়িত হলে কৃষিতে সেচসুবিধা সম্প্রসারণ, উৎপাদন বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা তৈরি এবং পানিসম্পদের পরিকল্পিত ব্যবহারে নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদী, পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সেলিম রেজা হাবিব, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা, পাবনার জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম, পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ, পাবনা জেলা বিএনপির আহবায় কহাবিবুর রহমান হাবিব সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মাসুদ খন্দকার এবং সুজানগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মীর রাশেদুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সাঁথিয়ার পল্লিতে বাতেন-পাগাল-হবিবর গং পুলিশের বাঁধা উপেক্ষা করে চালাচ্ছে দখলদারিত্ব-লুটতরাজ!

বার্তা সংস্থা পিপ (পাবনা) : পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার গৌরীগ্রাম ইউনিয়নের নিভৃত পল্লি শিবরামপুরে বাতেন, পাগাল, হবিবর গং-এর অত্যাচারে সাধারণ মানুষের জীবন অতীষ্ঠ। বাড়িঘরে হামলা, ভাংচুর, মারপিঠ, লুটতরাজ, জমি দখল, জুয়ার কারবার প্রভৃতি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। তাদের ভয়ে সাধারণ মানুষ মুখ খুলতে সাহস পায়না। সরেজমিনে খোঁজ নিযে জানা যায়, শিরবামপুর গ্রামের কুখ্যাত খাঁ গোষ্ঠীর এই সন্ত্রাসীরা মহরম ওরফে পাগাল, সন্তেষ, সাইফুল, সুরুজ ও শিপন কিছুদিন আগে পার্শ্ববর্তী হাঁড়িয়াকাহন গ্রামের আলহাজ মণ্ডল বাড়িতে হামলা করে থেকে গরু, ধান, চাল, আসবাবপত্র, হাঁস-মুরগি প্রভৃতি লুঠ করে। স্থানীয়দের চাপে গরু ফেরত দিলেও লুঠ করা অন্য জিনিসপত্র ফেরত দেয়নি। তারা শিবরামপুর গ্রামের দিনমজুর মনসেরের বাড়িঘরে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। মারধরের ভয়ে তাদের বিরুদ্ধে ভুক্তবোগীরা থানায় অভিযোগ পর্যন্ত করার সাহস পায় না।

এরই ধারাবাহিকতায় তারা শিবরামপুর গ্রামের আবুল কাসেমের ছেলে জহুরুলের জমি দখলে নেমেছে। সাঁথিয়া থানার সাধারণ জিডিসূত্রে (জিডি নং ১০২৬; তারিখ : ২৫/১০/২০২৬) জানা যায়, জহুরুল ইসলামের চার পুরুষ ধরে ভোগদখলকৃত জমিতে তারা আপ্তাব আলী খাঁ, হবিবর খাঁ, আবদুল বাতেন খাঁ, সন্তেষ খাঁসহ তাদের গোষ্ঠীর আরও বিশ-তিরিশজন সদস্য দেশীয় অস্ত্র, লাঠিসাটা দিয়ে ভয় দেখিয়ে বালু ভরাটপূর্বক দখলবাজি শুরু করেছে। দুর্ঘটনায় এক পা হারানো জহুরুলের দোকানেও তারা তালা দিয়ে দেয়। পুলিশ গিয়ে নিষেধ করলেও তারা সংঘবদ্ধ হয়ে দখলবাজি চালাচ্ছে। জহুরুল জানায়, ‘একাধিকবার তারা  তাকে মারধর করেছে। বারবার জিডি করলেও তারা আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছে। থানায় জিডি করেছি। আশা করি আইনি প্রতিকার পাবো।’