👁 103 Views

প্রবীণ সাংবাদিক গাজী মো. মতিয়ার রহমানের ইন্তেকাল, আমতলী প্রেসক্লাবে শোকের ছায়া

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি।। আমতলী প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ, প্রবীণ সাংবাদিক ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা খলিফা ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক গাজী মো. মতিয়ার রহমান (প্রায় ৬৫) আর নেই। গতকাল রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকার জনস্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আকস্মিকভাবে তিনি ইন্তেকাল করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

দীর্ঘদিন ধরে কিডনিজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন প্রবীণ এই সাংবাদিক। তাঁর মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে আমতলীর সাংবাদিক সমাজ, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।

সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে গাজী মো. মতিয়ার রহমানের মরদেহ তাঁর দীর্ঘদিনের কর্মস্থল আমতলী প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে আনা হয়। সেখানে সহকর্মী সাংবাদিক, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও তাঁর দীর্ঘদিনের শুভাকাঙ্ক্ষীরা শেষ বারের মতো তাঁকে দেখতে আসেন এবং শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
পরে সকাল ১০টায় আমতলী কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে তাঁর প্রথম জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।

জানাজায় সাংবাদিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন।
এরপর তাঁর মরদেহ নিজ বাড়ি গুলিয়াখালী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের গোজখালী গ্রামের খলিফা বাড়িতে নেওয়া হয়। সেখানে খলিফা বাড়ি জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে দ্বিতীয় জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।

আমতলী প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. রেজাউল করিম শোক প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা আমতলী প্রেসক্লাবের দীর্ঘদিনের একজন বিশ্বস্ত সহযোদ্ধাকে হারালাম। তাঁর চলে যাওয়া আমাদের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। তিনি অত্যন্ত আন্তরিক ও দায়িত্বশীল মানুষ ছিলেন।
সাংবাদিকতার পাশাপাশি সমাজ ও মানুষের কল্যাণে তাঁর অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে।’

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গাজী মো. মতিয়ার রহমান একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মরহুম গাজী নিজাম উদ্দিনের দুই ছেলে সন্তানের মধ্যে ছোট ছিলেন। পেশাগত জীবনে তিনি আনম আমজাদিয়া আলিম মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করেছেন। সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা খলিফা ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি এলাকার মানুষের কল্যাণে বিভিন্ন উদ্যোগে যুক্ত ছিলেন। নিজ এলাকার বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন ও নানা সামাজিক কর্মকাণ্ডেও তাঁর অবদান রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান।

ব্যক্তিজীবনে তিনি স্ত্রী, দুই কন্যা ও এক পুত্রসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন, সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষী রেখে গেছেন।
তাঁর মৃত্যুতে আমতলী প্রেসক্লাব, স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গন এবং তাঁর নিজ এলাকায় গভীর শোকের আবহ বিরাজ করছে। সহকর্মী ও এলাকাবাসী তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *