
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার আলাউদ্দিন নগরে দুই দিনব্যাপী বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা শিবিরের কার্যক্রম শেষ হয়েছে। শিবিরে দুই দিনে মোট ১ হাজার ৯০০ রোগীকে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ১২৪ জন রোগীকে ছানি ও অন্যান্য চক্ষুরোগের অস্ত্রোপচারের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। বাছাই করা এসব রোগীর বিনামূল্যে অস্ত্রোপচার ও প্রয়োজনীয় লেন্স সংযোজনের ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া ৭৭৬ জন রোগীকে প্রয়োজন অনুযায়ী বিনামূল্যে চিকিৎসা, ওষুধ ও চশমা দেওয়া হয়েছে।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা থেকে আলাউদ্দিন নগরের তহিরন নেছা হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এ চক্ষু শিবির শুরু হয়। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে দুই দিনের এ কার্যক্রম শেষ হয়।
তহিরন নেছা হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং আলাউদ্দিন আহমেদ ফাউন্ডেশনের আয়োজনে এ চক্ষু শিবিরে প্রধান সহযোগিতা করেছে দি ফ্রেড হলোজ ফাউন্ডেশন। চিকিৎসাসেবা ও রোগী বাছাই কার্যক্রম পরিচালনা করেছে খুলনা বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতাল।
আয়োজকেরা জানান, শিবিরে বিভিন্ন ধরনের চক্ষুরোগীর চোখ পরীক্ষা, চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ছানি ও অন্যান্য জটিল চক্ষুরোগে আক্রান্ত রোগীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর অস্ত্রোপচারের জন্য বাছাই করা হয়েছে। বাছাই করা ১ হাজার ১২৪ জন রোগীর বিনামূল্যে অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা করা হবে। অস্ত্রোপচারের পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী চোখে লেন্স সংযোজন, ওষুধ ও কালো চশমাও দেওয়া হবে।
অস্ত্রোপচারের জন্য প্রস্তুত করা রোগীদের নির্ধারিত সময়ে খুলনা বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। অস্ত্রোপচার শেষে তাদের নিজ নিজ এলাকায় পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাও থাকবে বলে জানান আয়োজকেরা।
চক্ষুরোগী মাজেদা খাতুন বলেন, তার আপন বলতে কেউ নেই, ছেলে-মেয়েও নেই। চোখের সমস্যার কারণে ঠিকমতো দেখতে পারেন না। কিন্তু চোখের অস্ত্রোপচার করানোর মতো আর্থিক সামর্থ্যও নেই। এখানে এসে বিনা খরচে চিকিৎসাসেবা ও অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা হওয়ায় তিনি খুবই খুশি। অসহায় মানুষের জন্য এমন উদ্যোগ নেওয়ায় আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
তহিরন নেছা হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, দুই দিনের শিবিরে মোট ১ হাজার ৯০০ রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ১২৪ জনকে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও বাছাই শেষে অস্ত্রোপচারের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। বাকি ৭৭৬ জন রোগীকে তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী বিনামূল্যে চিকিৎসা, ওষুধ ও চশমা দেওয়া হয়েছে। অসহায় ও দরিদ্র মানুষের জন্য বিনামূল্যে চক্ষুচিকিৎসার সুযোগ নিশ্চিত করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
আলাউদ্দিন আহমেদ ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপক মোর্শেদ আলম বলেন, বাছাই করা রোগীদের খুলনা বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালে নিয়ে বিনামূল্যে অস্ত্রোপচার করা হবে। রোগীদের যাতায়াত, থাকা-খাওয়া, চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যয় ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে বহন করা হবে। অসহায় ও দরিদ্র মানুষের জন্য এমন সেবামূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে আয়োজন করা হবে।
আলাউদ্দিন আহমেদ ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা যায়, বিশিষ্ট সমাজসেবক আলাউদ্দিন আহমেদ গত ২২ বছর ধরে এ অঞ্চলের চক্ষুরোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়া এবং অন্ধত্ব নিবারণে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। এরই ধারাবাহিকতায় এবারও এ চক্ষু শিবিরের আয়োজন করা হয়।
এ কার্যক্রমে দি ফ্রেড হলোজ ফাউন্ডেশন, খুলনা বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতাল, হেলথ কেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, গুরুকুল নার্সিং ইনস্টিটিউট, আলো নার্সিং ইনস্টিটিউট, আলাউদ্দিন আহমেদ ডিগ্রি কলেজ এবং আলাউদ্দিন আহমেদ শিক্ষাপল্লী পার্ক লিমিটেড সহযোগিতা করেছে।