👁 310 Views

হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মার পানি বিপৎসীমা ছুঁইছুঁই

বার্তা সংস্থা পিপ (পাবনা) : পাবনার ঈশ্বরদীতে পদ্মার পানি অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে। উপজেলার পাকশী হার্ডিঞ্জ ব্রীজ পয়েন্টে পদ্মার পানি এখন বিপৎসীমা ছুঁইছুঁই অবস্থা।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টায় পাকশী হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পানির উচ্চতা পরিমাপ করা হয় ১৩ দশমিক ০৩ সেন্টিমিটার। একদিন আগে রবিবার সকাল ৯টায়  এ পয়েন্টে পানির উচ্চতা ছিল ১৩ দশমিক ০২ সেন্টিমিটার। প্রতিদিনই পদ্মার পানি বাড়ছে।  হার্ডিঞ্জ ব্রীজ পয়েন্টে পানির বিপৎসীমা   ১৩ দশমিক ৮০ সেন্টিমিটার। আর মাত্র ৭৭ সেন্টিমিটার পানির  উচ্চতা বাড়লেই  হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মার পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করবে।
জানা যায়, বেশ কিছুদিন ধরে পাহাড়ী ঢল ও  ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদে  ফারাক্কা ব্যারেজের মোট ১০৯টি গেটের সবকটিই খুলে দেওয়ায় পদ্মার পানি হুহু করে বাড়ছে।
এদিকে, পদ্মা তীরবর্তী  বিভিন্ন নিচু এলাকা ও ফসলের জমিতে পানি প্রবেশ করায় গ্রামবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পাশাপাশি সাঁড়া ৫নং ঘাট এলাকায় নদীভাঙন দেখা দেওয়ায় পদ্মার তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের রাত কাটছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায়।
জানা গেছে, উপজেলার সাঁড়া, পাকশী , লক্ষ্মীকুণ্ডা ইউনিয়নে শত শত একর কলা বাগান, মুলা ও গাজরের ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে।
উপজেলার সাঁড়া ইউনিয়নের পদ্মা নদীর তীরবর্তী গ্রাম  সাঁড়া ঘাট, ইসলামপাড়াসহ আশপাশের কয়েকটি এলাকায় নদী রক্ষা বাঁধ অতিক্রম করে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করেছে। নদীর বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দেওয়ায় আতঙ্কে রয়েছেন তীরবর্তী বাসিন্দারা।
সাঁড়া ঘাট  এলাকার বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম জানান, সাঁড়া ঘাট এলাকায় নদীর রক্ষা বাঁধ নেই। পদ্মার পানি বাড়তে থাকায়  তারা খুব আতঙ্কে আছি।  এছাড়াও  নদী তীরবর্তী কোমরপুর, মাজদিয়া ও ইসলামপাড়ার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বেড়েছে। নদী তীরবর্তী এসব গ্রামে  প্রবেশের উপক্রম হয়েছে। নদী তীরবর্তী ফসলি জমিতে পানি উঠে গেছে।
উপজেলার লক্ষ্মীকুন্ডা ইউনিয়নের দাদাপুর গ্রামের আনিসুর রহমান বলেন,  শত শত একর জমির কলাবাগান এখন পানির নিচে। এখানকার চরাঞ্চলের শত শত একর জমি এখন পানির নিচে। এসব জমিতে অনেকেই গাজর, মুলা, করুল্লাসহ বিভিন্ন ফসলের আবাদ করেছিলেন। চরাঞ্চল পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় গোখাদ্যের চরম সঙ্কট দেখা দিয়েছে। চরে গোখাদ্যের অভাবে গবাদিপশু নিয়েও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। চরের গরু-মহিষের বাথান ভেঙে গরু-মহিষ নিয়ে সবাই চলে আসছেন। এছাড়াও লক্ষ্মীকুন্ডা ইউনিয়ের বেশ কয়েকটি গ্রামে প্রায় ৩০টি বেশি ইটভাড়ায় পানি ঢুকে পড়েছে। ফলে ভাটাগুলো ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।
সোমবার সকালে সরেজমিনে  হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে গিয়ে দেখা যায়, হার্ডিঞ্জ ব্রিজের ১৫ গাডারের মধ্যে ১৪টি গাডার পানির নিচে আরেকটি গাডারের কাছে পানি উঠতে শুরু করেছে। পানি বাড়ার গতি এভাবে অব্যাহত থাকলে আজ রাতের মধ্যে ১৫ নম্বর গাডারের নিকট পানি পৌঁছে যাবে। হার্ডিঞ্জ ব্রিজের নিচে অস্থায়ীভাবে গড়ে উঠা টি স্টল, খাবার দোকান, ফলমূল ও খেলনার দোকানপাটে পানি উঠতে শুরু করেছে। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি দোকান সরিয়ে নিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
হার্ডিঞ্জ ব্রিজ নিচের ফুচকা বিক্রেতা মনোয়ারা খাতুন বলেন, যেখানে আমার ফুচকার দোকান ছিল সেখানে পানি উঠে গেছে। এজন্য দোকান সরিয়ে নিয়েছি। যারা ব্রিজের নিচে বেড়াতে আসতো তারা আসতে পারছে না।
নাজমুল হোসেন (৬৫) নামে এক দর্শনার্থী বলেন, পানি বেড়েছে শুনে দেখতে এলাম। এসে দেখছি ব্রিজের নিচে গড়ে উঠা অস্থায়ী দোকানপাটগুলোতে পানি  ‍উঠে গেছে। অনেকেই দোকানপাট সরিয়ে নিচ্ছে।
হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে কর্মরত পানি উন্নয়ন বোর্ডের পানি পরিমাপক (রিডার) সেতু আক্তার বলেন, সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে সকাল ৯টায় পানির উচ্চতা ছিল ১৩ দশমিক ০৩ সেন্টিমিটার। রবিবার পানির উচ্চতা ছিল ছিল ১৩ দশমিক ০২ সেন্টিমিটার।
পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী ইলিয়াস হোসেন বলেন, হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পানির বিপদসীমা ১৩ দশমিক ৮০ সেন্টিমিটার। সোমবার এ পয়েন্টে পানির উচ্চতা পরিমাপ করা হয় ১৩ দশমিক ০৩ সেন্টিমিটার। বিপদসীমা থেকে ৭৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।   পানি বিপদসীমা অতিক্রম করবে কিনা তা এখনি বলা যাচ্ছে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *