
পলাশবাড়ী (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি: গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে স্বামীর অমানুষিক নির্যাতনের শিকার হয়ে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে শতাধিক সেলাই নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন দুই সন্তানের জননী শ্রাবণী আক্তার (২৩)। গত ৯ আগস্ট রাতে পৌরসভার গৃধারীপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ পরিবারের।
স্থানীয় সূত্র ও আহতের পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় চার বছর আগে আমবাড়ী গ্রামের আমছার আলীর ছেলে জনি মিয়ার (৩২) সঙ্গে মহদীপুর ইউনিয়নের গারানাটা গ্রামের ছামছুল ইসলামের মেয়ে শ্রাবণী আক্তারের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে দুই সন্তান রয়েছে।
শ্রাবণীর পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো। সংসার টিকিয়ে রাখার আশায় পরিবারের পক্ষ থেকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার দেওয়া হলেও পরে আবারও যৌতুক দাবি করা হয়। এতে শ্রাবণী অপারগতা প্রকাশ করলে গত ৯ আগস্ট রাতে তাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ।
শ্রাবণীর বাবা ছামছুল ইসলাম অভিযোগ করেন, তার মেয়েকে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধের চেষ্টা করা হয়। পরে বটি দিয়ে মাথা ও হাতে এলোপাতাড়ি আঘাত করা হয়। এতে শ্রাবণী গুরুতর আহত হন।
পরদিন সকালে আহত অবস্থায় তাকে পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। পরিবারের দাবি, সেখানে সড়ক দুর্ঘটনার কথা উল্লেখ করে তাকে ভর্তি করা হয়। তিন দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর আহত অবস্থায় শ্রাবণীকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ পরিবারের।
বর্তমানে শ্রাবণী পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। তার মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে শতাধিক সেলাই দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পরিবার।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন শ্রাবণীর পরিবার ও স্থানীয়রা।
শ্রাবণীর বাবা ছামছুল ইসলাম এ ঘটনায় পলাশবাড়ী থানায় একটি এজাহার দাখিল করেছেন বলে জানা গেছে।
তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে অভিযুক্ত জনি মিয়ার বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।