
রংপুর ব্যুরো: লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের ফলিমারী গ্রামে সাত বছর বয়সী শিশু নন্দিনী রানী হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। এ ঘটনায় অভিযুক্ত যুবককে আটক করেছে পুলিশ। পরে বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্তের বাড়িঘরে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে পুলিশ ও প্রশাসনের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে উত্তেজিত জনতা। সংঘর্ষে জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি) এবং অন্তত ১৮ জন পুলিশ সদস্য আহত হন। এ সময় এসপি ও ডিসির গাড়িসহ ছয়টি সরকারি যানবাহন ভাঙচুর করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কয়েক রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে এবং ঘটনাস্থলে বিজিবি মোতায়েন করা হয়।
দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হককে থানা থেকে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত (ক্লোজড) করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান।
পুলিশ জানায়, নিহত নন্দিনী রানী (৭) ফলিমারী গ্রামের কৃষক নলিনী চন্দ্র বর্মণের মেয়ে এবং স্থানীয় একটি ব্র্যাক প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। এ ঘটনায় আটক হয়েছেন একই গ্রামের ধনঞ্জয় বর্মণের ছেলে বিধান চন্দ্র বর্মণ (২৩)।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বিকেলে বাড়ি থেকে খেলতে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় নন্দিনী। সন্ধ্যার পর থেকে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি।
মঙ্গলবার সকালে স্থানীয়রা গ্রামের জাবেদ আলীর ভুট্টাখেতে ভাঙাচোরা গাছ দেখে সন্দেহ করেন। পরে সেখানে একটি গর্তের ভেতর বস্তাবন্দী ও মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত শিশুর পরিবার ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, নন্দিনীকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শিশুটিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
নিহত শিশুর বাবা নলিনী চন্দ্র বর্মণ অভিযোগ করেন, “মেয়ে নিখোঁজ হওয়ার পর সোমবার রাত ১১টার দিকে থানায় অভিযোগ করতে গেলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়নি। দ্রুত ব্যবস্থা নিলে হয়তো মেয়েকে জীবিত পাওয়া যেত।”
নন্দিনীর মা সাবিত্রী রানী বলেন, “আমার মেয়েকে প্রলোভন দেখিয়ে অথবা জোর করে ভুট্টাখেতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”
আদিতমারী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তুহিন মিয়া জানান, এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। আটক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, সরকারি গাড়ি ভাঙচুর ও পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের ভিডিও ফুটেজ দেখে শনাক্ত করা হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বর্তমানে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন রয়েছে। প্রশাসনের দাবি, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।