
মোঃ ইব্রাহীম বাবু, স্টাফ রিপোটার- ফ্যামিলি কার্ডের কর্মী নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে আন্দোলন, কর্মকর্তাদের বের করে দিলেন বিএনপি নেতাকর্মীরা নাচোল উপজেলা পরিষদ চত্বরে আন্দোলনকারী বিএনপি-ছাত্রদল-যুবদল নেতাকর্মীরা। চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে অনিয়ম, স্বজনপ্রতি ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ তুলে আন্দোলন করেছেন বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা। আন্দোলনের একপর্যায়ে উপজেলা পরিষদ চত্বরে কয়েকটি সরকারি দপ্তরে তালা ঝুলিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরে উপজেলা পরিষদের প্রধান ফটকেও তালা দেওয়া হয়। আজ সোমবার বেলা ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আজ সকাল ১০টার দিকে বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা নাচোল উপজেলা পরিষদ চত্বরে জড়ো হন। তাঁরা ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগের ফলাফল বাতিল করে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নতুন করে নিয়োাগ দেওয়ার দাবি জানান। একপর্যায়ে আন্দোলনকারীরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়, উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় ও সমবায় কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন। একই সঙ্গে কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অফিস থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে উপজেলা পরিষদের প্রধান ফটকেও তালা দেওয়া হয়। আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাহিত্যবিষয়ক সম্পাদক আসগার হাসান রুমি অভিযোগ করে বলেন, আওয়ামী লীগের দোসর ও জামায়াতের লোকজনকে নিয়োগ দিয়েছেন। বিএনপির কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। এ কারণে আমরা নিয়োগের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছি। আসগার হাসান রুমি আরও বলেন, ‘স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে। আমাদের দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন থেকে সরে যাব না। নাচোল উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের খোকন বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগ কমিটি স্বজনপ্রীতি করেছে। এখানে বেশির ভাগ আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের লোকজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। এ কারণে আমরা নিয়োগের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছি। তালা ঝোলানোর বিষয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বি এন পির উপজেলা শাখার সাধারন সম্পাদক আবু তাহের খোকন বলেন, ‘ইউএনওসহ নিয়োগ কমিটির সদস্যদের কার্যালয়ে তালা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অফিস থেকে বের করে দিয়ে উপজেলা পরিষদের প্রধান ফটকেও তালা দেওয়া হয়েছে। আন্দোলন কতক্ষণ চলবে জানতে চাইলে আবু তাহের খোকন বলেন, আজ সন্ধার সময় আমরা নেতাকর্মীদের নিয়ে বসব। এরপর পরবর্তী কর্মসূচির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। নাচোল উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা দুলাল উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের সবাইকে অফিস থেকে বের করে দিয়ে অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। নাচোল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকোমল চন্দ্র দেবনাথ বলেন, ‘দুপুরে বিএনপির লোকজন আন্দোলন করে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছিল। এখন তালা ঝুলছে কি না, তা ইউএনও বলতে পারবেন। আমার জানা নেই। ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে আর্থিক লেনদেন, রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা কিংবা স্বজনপ্রতির অভিযোগের বিষয়ে সংশিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। নাচোল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রিয়াংকা দাসের সঙ্গে বার বার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।