
মাহবুব হোসেন মেজর হাকিমপুর,দিনাজপুর প্রতিনিধিঃ দীর্ঘ প্রতীক্ষা, নানা জটিলতা আর ভোগান্তির অবসান ঘটিয়ে অবশেষে আলোর মুখ দেখল দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরের বহুল কাঙ্ক্ষিত ফোরলেন সড়ক। প্রায় ৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ে দীর্ঘদিন থমকে থাকা সড়কটির নির্মাণকাজ নতুন করে শুরু হয়েছে। এতে হিলির ব্যবসায়ী, পরিবহন শ্রমিক, বন্দরসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ফিরেছে স্বস্তি।
রোববার (৯ আগস্ট) বিকেলে হিলি জিরোপয়েন্ট থেকে চারমাথা হয়ে মহিলা কলেজ পর্যন্ত প্রায় সোয়া দুই কিলোমিটার ফোরলেন সড়কের নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
উদ্বোধনকালে মন্ত্রী বলেন, হিলিবাসীর দীর্ঘদিনের কাঙ্ক্ষিত ও বন্ধ থাকা সড়কটির কাজ আজ আমরা আবারও উদ্বোধন করলাম। হিলির মানুষকে আমরা কথা দিয়েছিলাম, ক্ষমতায় এলে হিলির অসমাপ্ত কাজগুলো শেষ করব। এই সড়কের কাজ পুনরায় শুরু করা সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নেরই অংশ।
তিনি বলেন, হিলির মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ছিল ফোরলেন সড়ক। নানা কারণে এর নির্মাণকাজ থমকে থাকলেও এখন তা পুনরায় শুরু হয়েছে। ফলে হিলিবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে।
হিলি স্থলবন্দর দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থলবন্দরগুলোর একটি উল্লেখ করে ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, প্রতিদিন এই বন্দর দিয়ে বিপুল পরিমাণ পণ্য আমদানি-রপ্তানি হচ্ছে। বন্দরের কার্যক্রম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সড়কে যানবাহনের চাপও বাড়ছে। তাই বন্দরের সক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি।
ফোরলেন সড়ক নির্মাণ শেষ হলে পণ্য পরিবহনে সময় ও ভোগান্তি কমবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে হিলি স্থলবন্দরের কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিধি বাড়বে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
মন্ত্রী আরও বলেন, হিলি স্থলবন্দরকে ঘিরে ইতোমধ্যে বিপুল মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা যত উন্নত হবে, ব্যবসা-বাণিজ্য তত সম্প্রসারিত হবে এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
হাকিমপুর (হিলি) উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফেরদৌস রহমান বলেন, হিলি স্থলবন্দর দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ পণ্য আমদানি-রপ্তানি হয়। বন্দরকেন্দ্রিক পণ্যবাহী ট্রাকের পাশাপাশি স্থানীয় ও দূরপাল্লার যানবাহন চলাচল করায় জিরোপয়েন্ট থেকে চারমাথা ও মহিলা কলেজ পর্যন্ত সড়কে দীর্ঘদিন ধরে যানজট লেগেই থাকত।
ফোরলেন সড়ক নির্মাণ হলে যানজট অনেকটাই কমে যাবে বলে আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, এতে বন্দরের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ আরও সহজ, দ্রুত ও নিরাপদ হবে। উপকৃত হবেন ব্যবসায়ী, পরিবহন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও সাধারণ মানুষ।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, হিলি বন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সড়কে যানবাহনের চাপও বেড়েছে। সরু সড়কে অতিরিক্ত যানবাহনের কারণে প্রায়ই দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
তাদের প্রত্যাশা, ফোরলেন সড়কের কাজ দ্রুত শেষ হলে হিলির দীর্ঘদিনের যানজটের অন্যতম কারণ দূর হবে। একই সঙ্গে বন্দরের পণ্য পরিবহন আরও দ্রুত ও নির্বিঘ্ন হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, হিলি স্থলবন্দরের গুরুত্ব ও ব্যস্ততা বিবেচনায় দীর্ঘদিন ধরেই একটি প্রশস্ত ও আধুনিক সড়কের দাবি জানিয়ে আসছিলেন তারা। দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকার পর অবশেষে নির্মাণকাজ শুরু হওয়ায় সেই দাবির বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।
তাদের দাবি, শুধু দ্রুত নির্মাণ নয়, সড়কের গুণগত মান নিশ্চিত করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে হবে। তাহলেই ফোরলেন সড়ক হিলির যোগাযোগ ব্যবস্থায় স্থায়ী পরিবর্তন আনবে।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম, দিনাজপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আসাদুজ্জামান, হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জর্জ মিত্র চাকমা, হাকিমপুর ও ঘোড়াঘাট সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আ ন ম নিয়ামত উল্লাহ, হাকিমপুর থানার ওসি মোঃ জাকির হোসেন, হাকিমপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ মাসুদ রানা, উপজেলা সমাজ সেবা অফিসার মোঃ মাসুদ রানা, উপজেলা হিসার রক্ষক অফিসার মোঃ আনোযার হোসেন, হাকিমপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ ফেরদৌস রহমান সাধারণ সম্পাদক মোঃ সাখাওয়াত হোসেন শিল্পী,পৌর বি েন পির সভাপতি মোঃ ফরিদ খাঁন, সাধারন সম্পাদক মোঃ নাজমুল হক সহ বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী, জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, বন্দরসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
প্রায় সোয়া দুই কিলোমিটার দীর্ঘ ফোরলেন সড়কটি নির্মাণ শেষ হলে হিলি স্থলবন্দরকেন্দ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন গতি আসবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, এটি শুধু একটি সড়ক নয়, হিলির যানজট নিরসন, বন্দরকেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণ এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করার গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো।