
নাটোর প্রতিনিধি : নাটোরের উত্তরা গণভবনের সামনে শুক্রবার বিকেলে পথসভা করার সময় বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতার পথসভাস্থল থেকে পিস্তলসহ নাটোরের প্রয়াত বিএনপি নেতা শামসুল আলমের ছেলে শামস আল আমিন তামিম (২৯) কে আটক করেছে পুলিশ। সে বগুড়া টিএমএসএস মেডিকেল কলেজের ছাত্র বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদশর্ীরা জানায়, শুক্রবার বিকেল আনুমানিক ৪টা ৩৫ মিনিটের দিকে উত্তরা গণভবনের সামনে বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতার পথসভা চলছিল। জাতীয় সংসদের হুইপ অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুুলু, জেলা পরিষদের প্রশাসক রহিম নেওয়াজসহ জেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের প্রায় সকল নেতারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। এ সময় খয়েরি রঙ্গের পোষাক পড়া এক যুবককে একটি পিস্তলসহ আটক করা হয়। পরে জানা যায় আটককৃত যুবক তামিম নাটোরের প্রয়াত বিএনপি নেতা সার ডিলার শামসুল আলমের ছেলে। তিনি তার পরিবারের সাথেই নাটোর পৌরসভার কানাইখালী এলাকায় বসবাস করেন এবং পিতা শামসুল আলমের সার ডিলারটি দেখাশোনা করেন। তিনি তার বাবার লাইসেন্সকৃত পিস্তল পকেটে নিয়ে সমাবেশ স্থলে সন্দেহজনক ভাবে ঘোরাঘুরি করছিলেন। নাটোর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনসুর আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, শুক্রবার বিকেলে বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা উত্তরা গণভবন পরিদর্শন শেষে গণভবনের গেটসংলগ্ন একটি পথসভা মঞ্চে বক্তব্য দিচ্ছিলেন। এ সময় ওই যুবক মন্ত্রীর কাছাকাছি অবস্থান করছিলেন। মন্ত্রী মঞ্চ থেকে নামার সময় ওই যুবকের সঙ্গে দুইবার ধাক্কা লাগে। এতে সন্দেহ হলে পুলিশ তাকে পাশে নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। একপর্যায়ে তার কাছে একটি পিস্তল পাওয়া যায়। পরে পিস্তলসহ তাকে আটক করে নাটোর সদর থানার হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ সময় আটক যুবক তামিম দাবি করেন, পিস্তলটি তার বাবার নামে লাইসেন্স করা। নিজের আত্মরক্ষার জন্য তিনি সেটি সঙ্গে এনেছিলেন। তিনি নিজেকে একজন শিক্ষার্থী বলেও দাবি করেন। এ বিষয়ে আরো বিস্তারিত পরে জানানো হবে বলেও ওসি জানান। তবে অন্য একাধিক সূত্রে জানা গেছে আটক তামিম দীর্ঘদিন থেকে নিয়মিত নেশাগ্রস্থ এবং এটা তার পিতার লাইসেন্সকৃত পিস্তল নয়। দেখতে প্রকৃত পিস্তলের মতো ওজন এবং রং হলেও এটা তার দারাজ থেকে কেনা খেলনা পিস্তল। নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইফতে খায়ের আলম বলেছেন, খেলনা পিস্তল হলেও কেন সে সমাবেশস্থলে গেল তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।