
আজহারুল ইসলাস সাথী ঘোড়াঘাটঃ
দিনাজপুরের ঘোড়ঘাটে আগাম জাতের আমন ধান কাটা শুরু হয়েছে। আগাম জাতের আমন ধান কাটার পর জমি প্রস্তুত করছেন আগাম শীতকালীন ফসলের জন্য। সার, ডিজেল ও কীটনাশকের দাম বৃদ্ধি এবং শ্রমিক খরচ বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ বেড়েছে । ধানের ফলন আগের মতোই রয়েছে বলে জানান, কৃষকরা।
সেপ্টেম্বর মাসের শেষ দিক থেকে অক্টোবর মাসের প্রথম ভাগ থেকেই আগাম জাতের ধান কাটা শুরু হয়েছে। অক্টোবরের মাঝামাঝি পর্যন্ত এই ধান কাটা চলবে। মূল মৌসুমের সাধারণ আমন ধান কাটা শুরু হবে নভেম্বরের শুরুতে।
এ বছর বড় ধরনের কোনো বন্যার প্রভাব বা মারাত্মক রোগবালাই না থাকায় আগাম জাতের আমনের ফলন বেশ ভালো ও আশানুরূপ হয়েছে। এতে কৃষকদের মনে আনন্দের হাসি ফুটেছে। তবে উৎপাদন খরচ কিছুটা বেড়ে যাওয়ায় লাভের পরিমাণ কিছুটা কমেছে বলে জানিয়েছেন কোনো কোনো কৃষক।
উপজেলার রামেশ^রপুর গ্রাম এলাকার কৃষক নজির হোসেন জানান, সাধারন উঁচু জমিতে আগাম জাতের বিনা ৭ ধান চাষ করেছি । এসব জমিতে কখনই পানি জমে থাকে না। তিনি ২ বিঘা জমিতে এধান চাষ করেছেন ।
তিনি জানান, আগাম জাতের আমন ধানের ফলন বিঘা প্রতি ২-৩ মণ কম হয়। প্রতি বিঘা জমিতে ধানের উৎপাদন হয় ১৬ থেকে ১৮ মণ। এ বছর প্রতি বিঘা জমিতে ধানের উৎপাদন খরচ হয়েছে ১৪ হাজার টাকা কিন্তু গেল বছর খরচ হয়েছিল ১২ হাজার টাকা। ‘আগাম জাতের আমন ধান কাটার পর আমি জমিতে আগাম জাতের শীতকালীন সবজি চাষের প্রস্তুতি নিচ্ছি। এছাড়াও ভুট্টা চাষ করবেন বলে জানান।
উপজেলার কশিগাড়ি গ্রামের কৃষক মজু জানান, আগাম জাতের আমন ধানের ফলন কিছুটা কম হলেও ধান কাটার পর তারা জমিতে আগাম জাতের শীতকালীন শাক-ভুট্টা চাষ করা যায়। এতে তারা লাভবান হন। এবার ধানের ফলন ভালো হয়েছে। তবে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় হতাশায় আছি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রফিকুজ্জামান বলেন, উপজেলার ৪টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় মোট ১৭,৩৫০ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। আগাম জাতের ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৫০০ হেক্টর । মৌসুমের শুরুতে কিছুটা খরা ও অনাবৃষ্টি থাকলেও খেতের অবস্থা ভালো রয়েছে এবং বাম্পার ফলনের আশা করছেন স্থানীয় কৃষক ও কৃষি বিভাগ।
এ বছর বন্যার প্রভাব কম থাকায় আগাম জাতের আমনের উৎপাদন আশানুরূপ হয়েছে। তিনি আরও বলেন, কৃষকেরা আগাম জাতের আমন ধান কাটার পর তারা ভুট্টা, আলুসহ আগাম জাতের, শাকসবজিসহ নানা ধরনের শীতকালীন ফসল চাষ করেন।