👁 482 Views

গাইবান্ধায় অসমাপ্ত ১৩ খাল, ফেরত গেল প্রায় ১১ কোটি টাকা

পলাশবাড়ী (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি: প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির আওতায় গাইবান্ধার সাত উপজেলায় ১৩টি খাল খননে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল ১৬ কোটি ৬২ লাখ ৫৬ হাজার ৩১৮ টাকা। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় এর মধ্যে প্রায় ১১ কোটি টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের ইজিপিপি প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৪১ কিলোমিটার খাল খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর মধ্যে ৫২ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হলেও বিভিন্ন খাতে ব্যয় হয়েছে ৫ কোটি ৬৫ লাখ ১৭ হাজার ৬৯১ টাকা। অসমাপ্ত ৪৮ শতাংশ কাজের বিপরীতে অব্যয়িত ১০ কোটি ৯৭ লাখ ৩৮ হাজার ৬২৭ টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে।
সূত্র জানায়, ভূমি জটিলতা ও জলাবদ্ধতার কারণে তিনটি খালের কাজ শুরুই করা যায়নি। আরও দুটি খালের কাজ জমি-সংক্রান্ত সমস্যা ও অতিবৃষ্টিতে বন্ধ হয়ে যায়। বাকি আটটি খালের কাজও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে নির্ধারিত সময়ে শেষ করা সম্ভব হয়নি।
সদর উপজেলার বাটিকামারি নালার ১ দশমিক ৪ কিলোমিটার অংশ খননের পরিকল্পনা থাকলেও কাজ হয়েছে আংশিক। জমি-সংক্রান্ত জটিলতায় বাকি অংশের কাজ বন্ধ রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, খালের বিভিন্ন স্থানে দখল করে বাড়িঘর ও স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে পানি প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় কৃষক শফিকুল ইসলাম বলেন, খালটি কিছুটা দৃশ্যমান হলেও পুরো অংশ খনন না হওয়ায় কৃষকরা এর সুফল পাচ্ছেন না। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত খনন করে পানি প্রবাহ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
প্রগতি লেখক সংঘের সাধারণ সম্পাদক রজতকান্তি বর্মন বলেন, কৃষকের উপকারের জন্য নেওয়া প্রকল্পের টাকা ফেরত যাওয়া কোনো সাফল্য নয়; এটি প্রকল্প বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্টদের ব্যর্থতারই প্রতিফলন।
পরিবেশ ক্লাবের গাইবান্ধা জেলা আহ্বায়ক গোলাম রাব্বানী মুসা বলেন, খালগুলো পানিতে পূর্ণ থাকা অবস্থায় খনন কাজ শুরু করা হয়েছে। পরিকল্পনা ও সময় নির্ধারণে আরও দূরদর্শিতা প্রয়োজন ছিল।
বাটিকামারি খাল প্রকল্পের সভাপতি ও বোয়ালী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম সাবু বলেন, অসমাপ্ত অংশ খনন না হলে কৃষকের কোনো কাজে আসবে না।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সবুজ কুমার বসাক জানান, কৃষকরা যাতে প্রকল্পের সুফল পান, সে জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে বাটিকামারি খালের বাকি অংশ খননের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সুন্দরগঞ্জ ও ফুলছড়ি উপজেলা প্রশাসনও জানিয়েছে, অসমাপ্ত কাজের অব্যয়িত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে। ভূমি-সংক্রান্ত জটিলতা ও দখলের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
এদিকে, সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রিয়াজুল ইসলামের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *