
ট্রাইব্যুনালের পিপি অ্যাডভোকেট মাহমুদ-উল আলম চৌধুরী মারুফ বলেন, ‘ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আসামি মো. আকতার সর্দারকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড ও অনাদায়ে ৬ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন বিচারক। রায়ের সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেণ। সাজা পরোয়ানা মূলে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশু চট্টগ্রাম নগরের সদরঘাট থানাধীন পূর্ব মাদারবাড়ী সাহেবপাড়া এলাকার ইউনুছ মিয়া সরকারি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী। শিশুর বাবা একটি জুতার কারখানায় এবং মা একটি গার্মেন্টে কর্মরত ছিলেন। পরিবারের সঙ্গে শিশুটি নগরের পূর্ব মাদারবাড়ীর সাহেবপাড়ার নার্গিস কলোনির একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতো। অভিযুক্ত আকতার সর্দার প্রতিবেশী হওয়ায় প্রায়ই বাসায় যাতায়াত করতেন এবং শিশুটিকে বিভিন্ন জিনিসপত্র কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখাতেন। বাবা-মা কর্মস্থলে গেলে বিকেল দিকে বাসায় একা থাকা শিশুটিকে ধর্ষণ করেন অভিযুক্ত আকতার। আকতার শিশুটিকে ধর্ষণ করার পর বিষয়টি কাউকে জানালে হত্যার হুমকি দেন। পরে ৬ জুলাই বিকেলে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে তার মা বিষয়টি জানতে পারেন। তখন পরিবারের সদস্যরা শিশুটিকে পরীক্ষা করে শারীরিক আঘাতের আলামত দেখতে পান। পরে স্থানীয় লোকজনকে বিষয়টি জানিয়ে তাকে চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনায় শিশুটির বাবা সদরঘাট থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্ত শেষে ২০২৩ সালের ২১ নভেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। ২০২৪ সালের ১৫ এপ্রিল অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়।