👁 242 Views

পাবনায় দুদকের মামলায় সহকারি খাদ্য পরিদর্শক তার বাবা ও স্ত্রীর পাঁচ বছর করে কারাদন্ড : ৫ কোটি টাকার অর্থ দন্ড সমুদয় সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত

বার্তা সংস্থা পিপ (পাবনা) : পাবনায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদকের) মামলায় এক সহকারি খাদ্য পরিদর্শক তার বাবা ও স্ত্রী পাঁচ বছর করে কারাদন্ড প্রদান করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে পাবনার স্পেশাল জেলা ও দায়রা জজ আবু সালেহ মো. সালাহউদ্দিন খাঁ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা পৃথক দুটি মামলায় এই রায় প্রদান করেন। কারাদন্ড ছাড়ায় ৫ কোটি টাকার অর্থ দন্ড ও সমুদয় সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত আদেশ দেওয়া হয়েছে। আদালত সূত্রে জানা যায়, সিরাজগঞ্জ জেলার বেলকুটি উপজেলার ভারপ্রাপ্ত খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা সহকারি খাদ্য বিভাগের পরিদর্শক মো. মনিরুল ইসলাম (৩৯) দুর্নীর্তি ও অবৈধ আয়ের মাধ্যমে ৫৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা অর্জন করেন এবং সেই টাকা তার পিতার নামে থাকা জমিতে ভবন নির্মাণে বিনিয়োগ করেন। এ কাজে তার পিতা মো. সহিদুল ইসলাম প্রামাণিক অবৈধ আয়কে বৈধ দেখাতে সহযোগিতা করেন বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া মনিরুলের স্ত্রী মোছা. ডলি খাতুনের নামে একটি ডেইরি ফার্মের মালিকানা দেখানো হয়। সেখানে ডলির নামে ৬০ লাখ টাকার বিনিয়োগ প্রদর্শন করা হয়। এ সব বিষয়ে দুদক সম্পদ বিবরণী চাইলে তারা তাদের ৬৩ লাখ ১৪ হাজার ২৭৩ টাকার সম্পদ বিবরণী প্রদান করেন। পরে দুদক তদন্ত করলে আসল রহস্য বেরিয়ে আসে। দুদক সুত্র জানায়, ঘুষ, দুর্নীতি ও অবৈধ্য আয়ের মাধ্যমে মনিরুল ও তার পরিবার গত ৫ বছরে কয়েক শ বিঘা জমি ও ডেইরি ফার্মের মালিক হয়েছেন। এ ছাড়া নামে বেনামে বিপুল সম্পদ অর্জন করেছেন।
এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন,(দুদক) সমন্বিত জেলা কাযালয়ের উপ-পরিচালক মো: শহিদুল আলম সরকার বাদী হয়ে পৃথক দুটি মামলা করেন।
১৪৪ জনের সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত পৃথক রায়ে মো. মনিরুল ইসলামকে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারায় উভয় মামলায় পাঁচ বছর করে সশ্রম কারাদন্ড দেন। পাশাপাশি প্রথম মামলায় ৫ কোটি ৪৩ লাখ টাকা এবং দ্বিতীয় মামলায় ৬০ লাখ ১০ হাজার টাকা অর্থদন্ড করেন।
একই রায়ে মনিরুল ইসলামের বাবা মো. সহিদুল ইসলাম প্রামাণিককে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারা এবং দন্ডবধির ১০৯ ধারায় পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদন্ড ও ৫ লাখ টাকা অর্থদন্ড দেওয়া হয়। একই ধারায় মনিরুলের স্ত্রী মোছা. ডলি বেগমকেও পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদন্ড এবং ৫ লাখ টাকা অর্থদন্ড প্রদান করা হয়েছে।
এ ছাড়া মামলা সংশ্লিষ্ট আসামিদের নামে থাকা স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
দুর্নীতি দমন কমিশন,(দুদক) সমন্বিত জেলা কাযালয়ের উপ-পরিচালক মো: শহিদুল আলম সরকার  বার্তা সংস্থা পিপ‘কে বলেন, এটি একটি নজির বিহীন রায়। এই রায়ের মাধ্যমে পরিবারের সব সদস্যরা দুর্নীতি না করতে পরিবার প্রধানকে নিরুৎসাহিত করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *