
পার্বতীপুর উপজেলা প্রতিনিধি | মানবসেবার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর (ভিডিপি) সদস্য ওসমান আলী। বুধবার (২২ জুলাই ২০২৬) তিনি স্বেচ্ছায় ৫৬তম বারের মতো রক্তদান করে আবারও প্রমাণ করলেন—মানবতার সেবাই তাঁর জীবনের অন্যতম অঙ্গীকার।
জানা গেছে, ওসমান আলী দীর্ঘ দুই দশক ধরে নিয়মিত স্বেচ্ছায় রক্তদান করে আসছেন। তাঁর এই মানবিক উদ্যোগের ফলে অসংখ্য মুমূর্ষু রোগী সময়মতো রক্ত পেয়ে নতুন জীবন ফিরে পেয়েছেন। এলাকায় তিনি একজন স্বেচ্ছাসেবী ও মানবিক মানুষ হিসেবে পরিচিত।
রক্তদান শেষে অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে ওসমান আলী বলেন, “আমি প্রথম রক্তদান করি ১৭ জানুয়ারি ২০০৬ সালে। এরপর থেকে মানুষের জীবন বাঁচানোর উদ্দেশ্যে নিয়মিত রক্ত দিয়ে আসছি। আমার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তিগুলোর একটি হলো, ১৯তম রক্তদানের মাধ্যমে আমার দীর্ঘ দিনের শত্রুতার অবসান ঘটে। মানবতার চেয়ে বড় কোনো পরিচয় নেই। এই ঘটনাই আমাকে আরও বেশি অনুপ্রাণিত করেছে। আমি দেশবাসীর কাছে দোয়া চাই, মহান আল্লাহ যেন আমাকে সুস্থ রাখেন এবং জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত মানবতার সেবার মাধ্যমে তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের তাওফিক দান করেন।”
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বাহিনীর সদস্যদের স্বেচ্ছায় রক্তদান, দুর্যোগে সহায়তা এবং জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম সমাজে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করছে। ওসমান আলীর ধারাবাহিক রক্তদান সেই মানবিক চেতনারই উজ্জ্বল প্রতিফলন।
ইসলামেও মানবজীবন রক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ তাআলা বলেন, “যে ব্যক্তি একটি প্রাণকে রক্ষা করল, সে যেন সমগ্র মানবজাতিকে রক্ষা করল।” (সূরা আল-মায়িদা, আয়াত: ৩২)। এই শিক্ষা থেকেই স্বেচ্ছায় রক্তদানকে মানবকল্যাণের অন্যতম মহৎ কাজ হিসেবে দেখা হয়।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, ওসমান আলীর এই ৫৬তম রক্তদান সমাজের তরুণদের স্বেচ্ছায় রক্তদানে উদ্বুদ্ধ করবে এবং মানবসেবার এই মহৎ উদ্যোগ আরও বিস্তৃত হবে। তাঁর মতো মানবিক মানুষই সমাজে ভালোবাসা, সম্প্রীতি ও সহমর্মিতার বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছেন।