
দুলাল সরকার, সৈয়দপুর-নীলফামারী প্রতিনিধি : নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরজুড়ে পৌরসভার সড়ক সংস্কার কাজে বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে সড়কের পাশে থাকা ২৭টি বৈদ্যুতিক খুঁটি। এসব খুঁটি অপসারণ বা স্থানান্তর না করায় সড়ক সংস্কার কাজে দেখা দিয়েছে ধীরগতি। আর এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নগরবাসী। জানা গেছে, শহরের শের-ই বাংলা সড়ক ও শহীদ জহুরুল হক সড়ক মিলে মোট সাত কিলোমিটার সড়ক সংস্কার কাজ হাতে নেয় পৌরসভা কর্তৃপক্ষ। ২০২৫ সালের ১৯ অক্টোবর কাজ শুরু হয়।বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ‘রিজিলিয়েন্ট আরবান অ্যান্ড টেরিটরিয়াল প্রজেক্ট’ (আরইউডিপি)-এর আওতায় এ কাজে ব্যয় ধরা হয়েছে ২৫ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। উভয় সড়কে প্রথম ৬০০ মিটার হবে আরসিসি ঢালাই এবং বাকি ২ হাজার ৯০০ মিটার অংশে করা হবে কার্পেটিং। ২০২৭ সালের জানুয়ারির মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা। কাজটির দায়িত্ব পায় ‘এমএ-কেই-এসবি-জেভি’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কিন্তু কাজটি করছে রংপুরের মেসার্স শাম্মি বিল্ডার্স’। কাজ শুরুর ১৩ মাস অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত ৪০ শতাংশ কাজও শেষ করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে না পারার প্রধান অন্তরায় হিসেবে দাবি করছে শের-ই বাংলা সড়কের তামান্না মোড় থেকে ওয়াপদা মোড় পর্যন্ত ২৭টি বৈদ্যুতিক খুঁটি। এরমধ্যে তামান্না হল মোড় থেকে থানা পর্যন্ত ১০টি স্টিল খুঁটি ও আতিয়ার কলোনি হতে ওয়াপদা মোড় পর্যন্ত ১৭টি এসপিসি খুঁটি বসানো আছে। এসব খুঁটি দিয়ে ১১ হাজার ভোল্টের লাইন সরবরাহ করা হচ্ছে। সংস্কার কাজে সড়ক কিছুটা সম্প্রসারণ করায় বৈদ্যুতিক খুঁটিগুলো সড়কের ভিতরে দৃশ্যমান হচ্ছে। খুঁটির কারণে সম্প্রসারিত অংশে ঢালাই বা কার্পেটিং কাজ করতে পারছে না ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি তুহিন বলেন, এসব খুঁটি সরানোর জন্য আমরা ইতোমধ্যে বিদ্যুৎ বিভাগকে ২৩ লাখ টাকা পরিশোধ করেছি। তারা খুঁটি না সরানোর কারণে আমরা সময়মতো সড়কের কাজ শেষ করতে পারছি না। নর্থবেঙ্গল ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) সৈয়দপুর বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আলিমুল ইসলাম সেলিম বলেন, গত ৮ সেপ্টেম্বর পৌরসভা থেকে ২২ লাখ ৯৩ হাজার টাকা পেয়েছি। ওইসব খুঁটি সরানোর জন্য আমরা ইতোমধ্যে টেন্ডারিং কার্যক্রম শেষ করেছি। দিনাজপুরের মেসার্স সুমি এন্টারপ্রাইজ নামের একটি প্রতিষ্ঠান কাজটি পেয়েছে। তারা কাজও শুরু করেছে। তবে খুঁটির পাশ দিয়ে মাটির নিচ পৌরসভার পানির লাইন ও টেলিফোন লাইন থাকায় খুঁটি স্থানান্তর করতে সমস্যা হচ্ছে। আতিয়ার কলোনি এলাকায় একটি এসপিসি খুঁটি স্থানান্তর করা সম্ভব হলেও একই এলাকায় অন্য একটি খুঁটি সরানোর জন্য মাটি খুঁড়ে গর্ত করে আবার তা ঢেকে দেওয়া হয়েছে। ডিসেম্বরের মধ্যে সবকটি খুঁটি সরানো সম্ভব হবে বলে তিনি জানান। এ বিষয়ে জানতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সুমি এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী বাপ্পি চক্রবর্ত্তীর সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, ১৭-১৮টি টাওয়ার পোল সরায়ে এসপিসি পোল বসাতে হবে কিন্তু বগুড়া থেকে এসপিসি পোল এখনো পাইনি। তাছাড়া মাটির ৭ ফুট গভীরে ঢালাই করা বিভিন্ন সেবাখাতের লাইন থাকায় খুঁটি সরানো সমস্যা হচ্ছে। সৈয়দপুর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আইয়ুব আলী জানান, বৈদ্যুতিক খুঁটি না সরানোর কারণে সড়ক সংস্কার কাজ ধীরগতিতে চলছে। এতে সাধারণ পথচারীসহ শহরবাসীর সমস্যা হচ্ছে। আমরা বিদ্যুৎ বিভাগকে নিয়মিত তাগাদা দিচ্ছি যাতে খুঁটিগুলো দ্রুত স্থানান্তর করা হয়। তবে মাটির নিচে পানির লাইন ও টেলিফোন লাইন থাকার বিষয়টি তিনি স্বীকার করেন। শহরের বৃহৎ শপিংমল, থানাসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রয়েছে শের-ই বাংলা সড়কে। তাছাড়া ওই সড়কটিই হলো জেলা সদর থেকে সৈয়দপুর শহরে প্রবেশের একমাত্র সরাসরি পথ। এভাবে দিনের পর দিন অসম্পন্ন সংস্কার কাজ স্বস্তির চেয়ে ভোগান্তিতে ফেলেছে পথচারীসহ অটো-সিএনজি চালক ও ব্যবসায়ীদের। সড়কের একাধিক স্থানে অর্ধেক অংশ ঢালাই ও অর্ধেক অংশ খোয়া বিছানো থাকায় সড়ক যেন গলিপথ আকার ধারণ করেছে। ফলে ওই সড়কে যান চলাচলে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। সময়মতো ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যেতে না পারায় আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে বাণিজ্যিক শহরের ব্যবসায়ীরা। সব দপ্তরের সমন্বিত প্রচেষ্টায় সড়ক সংস্কার দ্রুত বাস্তবায়নের দাবী ভুক্তভোগীদের।