👁 124 Views

সন্তান মারা যাওয়ার পরও শিক্ষা ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ শিক্ষিকার বিরুদ্ধে।।

মোঃ রুহেল উদ্দিন জেলা প্রতিনিধি, নওগাঁঃ

নওগাঁর মহাদেবপুরে প্রতিবন্ধী সন্তানকে বিদ্যালয়ে ভর্তি না করিয়েও শিক্ষা ভাতা উত্তোলন এবং সন্তান মারা যাওয়ার পরও তার বিপরীতে ভাতা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তবে অভিযোগ স্বীকার করে অভিযুক্ত শিক্ষিকা। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে শিক্ষা বিভাগ।

অভিযুক্ত শিক্ষিকা মোছা. জুলেখা খাতুন মহাদেবপুর উপজেলার দাউল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত। তাঁর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মোছা. জামালুল ফেরদৌস।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, প্রায় তিন বছর আগে মারা যাওয়া প্রতিবন্ধী সন্তানের নামে শিক্ষা ভাতা উত্তোলন করে আসছিলেন ওই শিক্ষিকা। তবে সংশ্লিষ্ট সন্তানকে বিদ্যালয়ে ভর্তি না করিয়েই নিয়মবহির্ভূতভাবে ভাতা উত্তোলন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন প্রধান শিক্ষিকা।

অভিযোগে আরও বলা হয়, শিক্ষিকার বড় ছেলে মারা গেছেন। বর্তমানে তাঁর ছোট ছেলে অষ্টম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত। প্রধান শিক্ষিকার দাবি, ২০২৬ সালের জুলাই মাসের বেতন-ভাতার বিবরণী পর্যালোচনা করে দেখা যায়, দুই সন্তানের বিপরীতে এক হাজার টাকা শিক্ষা ভাতা উত্তোলন করা হয়েছে।

এ ঘটনায় অতিরিক্ত উত্তোলন করা অর্থ সমন্বয় এবং অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে আবেদন জানিয়েছেন প্রধান শিক্ষিকা।

অভিযোগের বিষয়ে সহকারী শিক্ষিকা মোছা. জুলেখা খাতুন জানান, ২০২৩ সালে তাঁর সন্তান মারা যায়। এরপর সন্তানের শিক্ষা ভাতা বন্ধ করার জন্য তিনি মহাদেবপুর অ্যাকাউন্টস অফিসে লিখিত আবেদন নিয়ে গিয়েছিলেন। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ভাতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যাবে বলে তাঁকে ফিরিয়ে দেন। তাঁর দাবি, ভাতা উত্তোলনের ক্ষেত্রে ইচ্ছাকৃত কোনো অনিয়ম করেননি তিনি।

এ বিষয়ে মহাদেবপুর উপজেলা হিসাব রক্ষক অফিসার  সৈয়দ মোহাম্মদ খালেকুজ্জামান জানান, অভিযোগটিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেছেন।

অন্যদিকে, মহাদেবপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু রাইহান জানান, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।