
নিজস্ব প্রতিবেদক: মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়িতে আদালতে মামলা চলমান থাকা একটি জমিতে ঘর নির্মাণ ও দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এ সময় বাধা দিতে গেলে গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেছেন জমির দাবিদার সেরু মৃধা (৬৬)। নিরাপত্তা ও আইনগত ব্যবস্থা চেয়ে তিনি টঙ্গীবাড়ি থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ধীপুর ইউনিয়নের ডুলিহাটা গ্রামে। লিখিত অভিযোগে চারজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ৩০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
সেরু মৃধার অভিযোগ, ডুলিহাটা মৌজার এসএ খতিয়ান নম্বর ২৪৩, সাবেক দাগ নম্বর ৩৩৭ ও বর্তমান দাগ নম্বর ৫৫৪-এর ২৬ শতাংশ জমি নিয়ে মুন্সীগঞ্জের দেওয়ানি আদালতে মামলা চলমান। মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত জমিটি নিয়ে কোনো পক্ষের দখল বা নির্মাণকাজ না করার বিষয়টি তিনি দাবি করেন। তাঁর অভিযোগ, মামলা চলমান থাকা অবস্থায় জরিপ আলী মাদবর (৯০), আনোয়ার মাদবর (৬০), রিহাম উদ্দিন (২২) ও ছালেহা মুক্তা (৪৮)সহ কয়েকজন ওই জমি দখলের চেষ্টা করছেন।
অভিযোগে বলা হয়, শুক্রবার সকাল সাতটার দিকে ২০ থেকে ৩০ জন লোক নিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ওই জমিতে ঘর নির্মাণের চেষ্টা করেন। এ সময় সেরু মৃধা ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা বাধা দিলে তাঁদের গালিগালাজ করা হয়। একপর্যায়ে দেশীয় অস্ত্র দেখিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শ্রমিকরা ঘর নির্মাণের কাজ করছে।
সেরু মৃধার ছেলে নিজাম মৃধা বলেন, তাঁর বাবা প্রায় চার বছর আগে জমিটি কিনেছেন। আনোয়ার শেখ, লাবু শেখ, জরিপ আলী শেখ ও কর্নেল শেখ বহিরাগত লোকজন নিয়ে জমিটি দখল করে ঘর নির্মাণের চেষ্টা করছেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখতে বললেও পরে আবার কাজ শুরুর চেষ্টা করা হচ্ছে। এতে তাঁরা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন।
তবে অভিযুক্ত আনোয়ার শেখ বলেন, ‘আমরা আমাদের জমিতে ঘর নির্মাণ করছি। পুলিশ আমাদের থানায় যেতে বলেছে। আমরা থানায় যাব।’
টঙ্গীবাড়ি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নুরুজ্জামান বলেন, ‘ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। যেহেতু জমি নিয়ে মামলা চলমান, তাই শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে উভয় পক্ষকে বলা হয়েছে। ঘর নির্মাণের কাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। একইসাথে উভয় পক্ষকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে থানায় আসতে বলা হয়েছে।’
টঙ্গীবাড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শামীম আহমেদ বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ঘর নির্মাণ করতে নিষেধ করা হয়েছে। এরপরও ঘর নির্মাণের চেষ্টা করা হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।