👁 334 Views

বদলগাছী সন্ন্যাসতলা নাসরিন সিদ্দীকি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে খোলা আকাশের নিচে পাঠদান।জীবন ঝুঁকিতে শিক্ষার্থী।।

এনামুল কবীর এনাম বদলগাছী নওগাঁ সংবাদাতাঃ

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার সন্ন্যাসতলা নাসরিন সিদ্দিকী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের একটি জরাজীর্ণ ভবনের অংশ ভেঙে পড়ায় আতঙ্কের মধ্যে পাঠদান চলছে। দুর্ঘটনার আশঙ্কায় কোনো কোনো শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয় মাঠে কিংবা খোলা আকাশের নিচে ক্লাস নিতে হচ্ছে। দ্রুত ভবনটি মেরামত বা নতুন ভবন নির্মাণ না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী সহ স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের ঐ বিদ্যালয়ের পুরোনো ভবনের একটি শ্রেণিকক্ষের একাংশ ভেঙে পড়ে। এরপর বাঁশ ও অন্যান্য উপকরণ দিয়ে সাময়িকভাবে সেটি ঠেকানোর চেষ্টা করা হলেও ভবনটি নিরাপদ করা সম্ভব হয়নি। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ কক্ষটি ব্যাবহার নিয়ে দেখা দিয়েছে নিরাপত্তা শঙ্কা।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানায়, জরাজীর্ণ শ্রেণিকক্ষে বসে ক্লাস করতে তাদের ভয় লাগে। দুর্ঘটনার আশঙ্কায় বাইরে ক্লাস করতে হলেও সেখানে রোদ-বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে পাঠদানের বিঘ্ন ঘটছে। এতে নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মাসুদ রানা বলেন, বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সময় তৎকালীন ব্যবস্থাপনা কমিটির উদ্যোগে কয়েকটি শ্রেণিকক্ষ নির্মাণ করা হয়েছিল। বর্তমানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় শ্রেণিকক্ষের সংকট দেখা দিয়েছে। পুরোনো কক্ষগুলোর কয়েকটি বর্তমানে আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

তিনি বলেন, “ঝুঁকিপূর্ণ শ্রেণিকক্ষটি দ্রুত মেরামত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশে পাঠদানের জন্য নতুন ভবন নির্মাণের প্রয়োজন মনে করি।এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ভবনটির অবস্থা জরাজীর্ণ হলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি। সাময়িকভাবে বাঁশ দিয়ে ঠেকিয়ে রাখার মতো অবস্থায় শিক্ষা কার্যক্রম চালানো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। যেকোনো সময় ভবনের আরও অংশ ধসে পড়ে প্রাণহানির মতো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন তারা এলাকার স্বচেতন মহল।

অভিভাবকরাও দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, মেয়েদের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে পাঠদান কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম চালু রাখতে দ্রুত ভবনটি পরিদর্শন, প্রয়োজনীয় সংস্কার অথবা নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

এ অবস্থায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ এবং দ্রুত নতুন ভবন বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *