👁 339 Views

ঘোড়াঘাটে আধুনিকতার ছোঁয়ায় হারিয়ে যাচ্ছে গরুর হাল ঐতিহ্য

ঘোড়াঘাট, প্রতিনিধিঃ দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে গ্রামীণ জনপদে কালের বিবর্তনে ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে গরু দিয়ে হালচাষের ঐতিহ্য। আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতির প্রসার, মানুষের জীবনযাত্রার পরিবর্তন এবং সময়ের চাহিদা মেটাতে দ্রুত ফলনের প্রয়োজনে আজ আর চোখে পড়ে না সেই চিরচেনা দৃষ্টভোরবেলা গরু-লাঙ্গ-জোয়াল কাঁধে মাঠে পাড়ি দেওয়া কৃষকের। এক সময় বাংলার পল্লী গ্রামগুলিতে হালচাষ ছিল কৃষকের প্রধান কৃষি পদ্ধতি। গরুর জোড়ার সঙ্গে লাঙ্গ, জোয়াল, মই ও গোমাই নিয়ে দিনের পর দিন হালচাষ করতেন কৃষকরা। কোকিল ডাকা সকালে পান্তাভাত আর আলুবর্তার পোটলা হাতে কৃষানিরা যেতেন মাঠে। মাঠ ভরতো কৃষকের কণ্ঠে পল্লীগীতি ও ভাটিয়ালির সুরে। কিন্তু আজ সেই দৃশ্য যেন শুধুই স্মৃতি। ট্রাক্টর, পাওয়ার টিলার, সিডারসহ বিভিন্ন আধুনিক যন্ত্র কৃষি কাজে ব্যবহৃত হওয়ায় কৃষকরা দ্রুত ফলন ও সময় সাশ্রয়ের জন্য গরু দিয়ে হালচাষ পরিহার করছেন। “একসময় দুই জোড়া বলদ দিয়ে জমি চাষ করা হতো। গরুর গোবর জমিতে পড়ে মাটি ছিল উর্বর, ঘাস কম হতো, ফসল ভালো হতো। এখন সে দৃশ্য শুধু স্মৃতিতে। গরু দিয়ে হালচাষ যেমন পরিবেশবান্ধব, তেমনি এটি আমাদের গ্রামীণ ঐতিহ্যের অংশ। এখন শখের বশে কেউ কেউ ব্যবহার করলেও তা বিলুপ্তির পথে।” উপজেলার হাট-বাজারে এখনো কিছু কৃষি সরঞ্জামের দোকান দেখা যায়, তবে চাহিদা না থাকায় সেই কারিগররাও ঝুঁকছেন অন্য পেশায়। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রফিকুজ্জামান জানান, গরু দিয়ে চাষ করলে মাটির গভীরতা ভালোভাবে আলগা হয়, মাটি ছোট কণায় বিভক্ত হয়, যা মাটির উর্বরতা বাড়াতে সহায়ক। এটি প্রাকৃতিক পদ্ধতি এবং পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর নয়। তবে সময় ও উৎপাদনশীলতার দিক দিয়ে যান্ত্রিক কৃষি অনেক এগিয়ে। প্রবীণ কৃষকদের মতে, গরু দিয়ে হালচাষ শুধু কৃষি পদ্ধতি নয়, এটি ছিল গ্রামীণ জীবনের ছন্দ। সেই ছন্দ আজ আর গ্রামে বাজে না। আধুনিকতার ঢেউয়ে হারিয়ে যাচ্ছে বাংলার এক গৌরবময় কৃষি ঐতিহ্য, যা আগামী প্রজন্মের কাছে হয়ে থাকবে শুধুই গল্পের অংশ। এখন কার ছেলে মেয়ে লাঙ্গ, জোয়াল, মই, লরি ও গোমাই এগুল এক সময় চিনবে না । এগুলো দেখতে হলে যাদুঘড়ে জাদু ঘড়ে ছাড়া দেখতে পাওয়া যাবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *