
পলাশবাড়ী (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি: গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার বরিশাল ইউনিয়নের ময়মন্তপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ ভবনটি কয়েক মাস আগেই পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে।
কিন্তু বিকল্প শ্রেণিকক্ষের ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়ে সেই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই পাঠদান চলছে। এতে আতঙ্কে দিন কাটছে ১০৩ কোমলমতি শিক্ষার্থী ও চার শিক্ষকের।
সোমবার (৭ নভেম্বর) সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের একতলা ভবনের বিম ও কলামের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় ফাটল। বেরিয়ে পড়েছে মরিচা ধরা রড। ছাদ ও দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়ছে। বৃষ্টির সময় ছাদ চুইয়ে শ্রেণিকক্ষে পানি পড়ে। ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণার পরও দুটি কক্ষ এবং বাইরের একটি টিনশেড কক্ষে পাঠদান চালিয়ে যেতে হচ্ছে।
শিক্ষার্থীরা জানায়, ক্লাস চলার সময় ছাদ বা বিমের পলেস্তারা খসে পড়ার আতঙ্কে থাকতে হয়। অভিভাবক গোলজার অভিযোগ করে বলেন, শ্রেণিকক্ষ সংকটে নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও কমে গেছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম মওলা বলেন, ভবনটিতে তিনটি শ্রেণিকক্ষ ও একটি অফিস রয়েছে। বিম ও কলামে বড় ফাটল থাকায় যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হলেও পর্যাপ্ত বিকল্প কক্ষ না থাকায় বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়েই পাঠদান চালাতে হচ্ছে।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকেরা জানান, ভবনটি ১৯৭২ সালে নির্মিত। দীর্ঘদিনের পুরোনো ভবনটি এখন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। দ্রুত এটি অপসারণ করে নতুন ভবন নির্মাণ জরুরি।
একটি বিদ্যালয়, ১০৩ শিশু—কিন্তু নিরাপদ শ্রেণিকক্ষ নেই। পরিত্যক্ত ভবনের নিচে বসে ভবিষ্যৎ গড়ার এই নির্মম বাস্তবতা যেন কোনো দুর্ঘটনার অপেক্ষায় না থাকে। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও নির্বিঘ্ন পাঠদান নিশ্চিত করতে দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা। তাঁরা এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।