
বার্তা সংস্থা পিপ (পাবনা) : নানা উৎসাহ-উদ্দীপনা ও কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পাবনায় সমতল আদিবাসী নারী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্মেলনে সমতলের আদিবাসী নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা, পারিবারিক ও সামাজিক সহিংসতা প্রতিরোধ, নারী নির্যাতন বন্ধ এবং সরকারি আইনগত সহায়তা পাওয়ার অধিকার সম্পর্কে সচেতন হওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
রোববার সকালে পাবনা শহরের বনমালী শিল্পকলা কেন্দ্রে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সমতলের আদিবাসী নারীদের জীবনমান উন্নয়ন, অধিকার সুরক্ষা ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে যৌথভাবে সম্মেলনের আয়োজন করে ‘আমরাই পারি পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধ জোট’, ‘ব্রেড’, ‘বাঁচতে চাই’ ও ‘এসডিকেএস’। ক্রিশ্চিয়ান এইডের সহযোগিতায় সম্মেলনটির অর্থায়ন করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।
আদিবাসী নেত্রী অনিতা রানী মুরাদির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা লিগ্যাল এইড কর্মকর্তা ও সহকারী সিভিল জজ মো. আজহারুল ইসলাম, জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল মান্নান, জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক জিলাল উদ্দিন, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শাহনাজ পারভীন, ‘আমরাই পারি’ জোটের জেলা আহ্বায়ক ও প্রবীণ সাংবাদিক আব্দুল মতীন খান, পাবনা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি এবিএম ফজলুর রহমান এবং মাছরাঙা টেলিভিশনের উত্তরাঞ্চলীয় ব্যুরো চিফ উৎপল মির্জা।
অনুষ্ঠানে জেলা লিগ্যাল এইড কর্মকর্তা ও সহকারী সিভিল জজ মো. আজহারুল ইসলাম বলেন, দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী দরিদ্র ও অসহায় মানুষ বিনামূল্যে আইনগত সহায়তা পাওয়ার সুযোগ রাখেন। কোনো নারী পারিবারিক নির্যাতন, বাল্যবিবাহ, যৌতুক, ভরণপোষণ, নারী ও শিশু নির্যাতন কিংবা অন্যান্য আইনগত সমস্যার শিকার হলে আইনের আশ্রয় নেওয়ার পাশাপাশি সরকারি লিগ্যাল এইডের সহায়তা নিতে পারেন। তিনি আদিবাসী নারীদের নিজেদের আইনগত অধিকার সম্পর্কে জানতে এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে আইনগত প্রতিকার গ্রহণে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, সমতলের আদিবাসী নারীদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন, তাদের অধিকার রক্ষা এবং পরিবার ও সমাজে সব ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। শুধু আইন থাকলেই হবে না, সেই আইন সম্পর্কে মানুষের জ্ঞান ও সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।
কবি ও আবৃত্তিশিল্পী অঞ্জলী ভৌমিকের উপস্থাপনায় এবং সাংবাদিক ও উন্নয়নকর্মী কামাল আহমেদ সিদ্দিকীর সার্বিক পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সম্মেলনের শুরুতেই জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। স্বাগত বক্তব্য দেন ‘আমরাই পারি পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধ জোট’-এর প্রোগ্রাম অফিসার নাজমুস সাকিব।
সম্মেলনে বক্তব্য দেন ‘বাঁচতে চাই’ সমাজ উন্নয়ন সমিতির নির্বাহী পরিচালক আব্দুর রব মন্টু, ব্রেডের নির্বাহী পরিচালক শহীদুল ইসলাম, দৈনিক সমকালের ঈশ্বরদী প্রতিনিধি সেলিম সরদার, এসডিকেএসের নাসির উদ্দিন ময়নুল, সুচিতা সমাজ উন্নয়ন সমিতির নির্বাহী পরিচালক নাসরিন পারভীন এবং আদিবাসী নারীদের মধ্যে অনিতা রানী মাহাতো, লিপি রানী বিশ্বাস, শান্তি রানী মাহাতোসহ অনেকে।
বক্তারা বলেন, সমতলের আদিবাসী নারীরা পরিবার, সমাজ ও কর্মক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের বৈষম্য ও সহিংসতার মুখোমুখি হন। অনেক ক্ষেত্রে অধিকার লঙ্ঘনের শিকার হলেও আইনগত প্রতিকার সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা না থাকায় তারা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হন। তাই সরকারি আইনগত সহায়তা, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে বিদ্যমান আইন, সম্পত্তি ও উত্তরাধিকার সংক্রান্ত অধিকার, বাল্যবিবাহ ও যৌতুকবিরোধী আইনসহ বিভিন্ন আইন সম্পর্কে তাদের সচেতন করে তোলা জরুরি।
বক্তারা আরও বলেন, আদিবাসী নারী হওয়া কোনোভাবেই তাদের ন্যায়বিচার ও আইনগত সুরক্ষা পাওয়ার ক্ষেত্রে বাধা হতে পারে না। পরিবার ও সমাজে নির্যাতনের শিকার হলে নীরব না থেকে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর, আইনগত সহায়তা প্রতিষ্ঠান ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে অভিযোগ করার বিষয়ে তাদের উৎসাহিত করতে হবে।
সম্মেলনে আদিবাসী নারীদের বিপুলসংখ্যক প্রতিনিধি, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি, উন্নয়নকর্মী, সাংবাদিক ও সুধীজন অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে আদিবাসীদের অধিকার ও জীবনসংগ্রাম নিয়ে সাংবাদিক কামাল আহমেদ সিদ্দিকীর লেখা দু’টি কবিতা আবৃত্তি করেন কবি ও আবৃত্তিশিল্পী অঞ্জলী ভৌমিক। কবিতায় আদিবাসী মানুষের অধিকার, বৈষম্য ও ন্যায়বিচারের আকাঙ্ক্ষা তুলে ধরা হলে উপস্থিতদের মধ্যে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
সম্মেলনে বক্তারা সমতলের আদিবাসী নারীদের অধিকার সুরক্ষায় সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে নির্যাতন ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং প্রত্যেক আদিবাসী নারী যেন নিজের আইনগত অধিকার জানেন ও প্রয়োজনের সময় বিনামূল্যে আইনগত সহায়তা গ্রহণ করতে পারেন—সে বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
পাবনার ভাঁড়ারার সেই চেয়ারম্যানের অপসারণের দাবিতে জুলাই যোদ্ধাদের স্মারকলিপি
বার্তা সংস্থা পিপ (পাবনা) : কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নানাভাবে পৃষ্ঠপোষকতা ও সহযোগিতার অভিযোগ এনে শেখ হাসিনার ফেরার ঘোষণায় উচ্ছ্বসিত পাবনার ভাড়ারা ইউনিয়নেচেয়ারম্যান সুলতান মাহমুদ খানের অপসারণ ও তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন জুলাই যোদ্ধারা। এসময় তাকে দ্রুত অপসারণের জন্য জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন তারা।
জুলাই ঐক্য পরিষদের ব্যানারে রবিবার (৯ আগস্ট) দুপুরে পাবনার জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে পাবনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে যায়। তাদের পক্ষ থেকে একটি প্রতিনিধি দল জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলামের কাছে একটি স্মারকলিপি দেন। এসময় জেলা প্রশাসক তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবেন বলে আশ্বাস দেন।
সম্মুখ সারির জুলাই যোদ্ধারা বলেন, ২০২৪ এর ৪ আগস্ট পাবনায় ছাত্র-জনতার বিক্ষোভ মিছিলেও হামলায় অংশ নিয়েছিল সুলতান চেয়ারম্যান। কিন্তু আমরা তার নাম এজাহার দেওয়ার পরও রহস্যজনকভাবে মামলা থেকে নাম বাদ গিয়েছিল। সেই সুলতানা ভাড়ারা এলাকায় আওয়ামী সন্ত্রাসীদের নিয়ে রাজত্ব কায়েম করেছে। সর্বশেষ শেখ হাসিনার ফেরার ঘোষণায় সে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। দিল্লিতে পলাতক ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনে নিয়ে সজিব ওয়াজেদ জয় যে লাইভ করেছেন সেখানে সুলতান চেয়ারম্যান নানা ধরনের কমেন্টস করেছেন। এরপরও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
এবিষয়ে একাধিকবার যোগাযোগ করেও অভিযুক্ত পাবনা সদর উপজেলার ভাড়ারা ইউনিয়ন পরিষদের আওয়ামীপন্থি চেয়ারম্যান সুলতান মাহমুদ খানের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।
উল্লেখ্য, গত ৫ আগস্ট পলাতক শেখ হাসিনার কথিত সংবাদ সম্মেলনের ফেসবুক লিঙ্কে সুলতান মাহমুদ খান কমেন্টস করেন- “অবশ্যই আওয়ামী লীগ মানেই বাংলাদেশ। এখন যা বুঝি আগে এতোটা বুঝতাম না। কিন্তু অতীতে কিছু ভুল ছিলো সেগুলো সংশোধন করলে ইনশাআল্লাহ। আওয়ামী লীগ অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন বেশি জনপ্রিয় এবং বাংলাদেশের জন্য প্রাসঙ্গিক।” এরপর থেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জুলাই আন্দোলন সংক্রান্ত বিভিন্ন সংগঠন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।