
পলাশবাড়ী (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি: গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী মেরিরহাট বাজারে নির্মাণাধীন একটি মসজিদের জমির মালিকানা নিয়ে ত্রিমুখী বিরোধ দেখা দিয়েছে। প্রায় ২০ শতক জমি নিয়ে স্থানীয় মসজিদ নির্মাণ কমিটি, সরকারি খাদ্যগুদাম কর্তৃপক্ষ এবং পীরোত্তর সম্পত্তির মোতোয়াল্লীর ওয়ারিশরা পৃথক মালিকানা দাবি করছেন। বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান থাকায় বিরোধ আরও জটিল হয়েছে।
স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মানুষ ও মসজিদ নির্মাণ কমিটির দাবি, জমিটি দীর্ঘদিনের পীরোত্তর সম্পত্তি। ধর্মীয় কাজে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে সেখানে বহুতল মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে নির্মাণের সাইনবোর্ড টাঙিয়ে মাটি খননসহ প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
অন্যদিকে পলাশবাড়ী সরকারি খাদ্যগুদাম কর্তৃপক্ষের দাবি, মেরিরহাট বাজারের ওই ২০ শতক জমি সরকারি সম্পত্তি এবং বিআরএস (ইজঝ) রেকর্ডে খাদ্য বিভাগের নামে রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সেখানে অস্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করে সরকারি খাদ্যশস্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। তাদের দাবি, সরকারি জমিতে অনুমতি ছাড়া মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ বেআইনি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
তবে পীরোত্তর সম্পত্তির মোতোয়াল্লীর ওয়ারিশদের দাবি, জমিটি শতবর্ষী পীরোত্তর সম্পত্তি, যার মূল উৎসর্গকারী ছিলেন পীর সাহেব ওলী মেহের আলী (রহ.)। তৎকালীন সময়ে সাধারণ মুসলমানদের পক্ষে মোহাম্মদ মামুদ হাজীকে মোতোয়াল্লী নিয়োগ করা হয়। তাদের দাবি, সিএস ও এসএ জরিপে মামুদ হাজী ও তাঁর ওয়ারিশদের নামে জমিটি রেকর্ডভুক্ত রয়েছে।
মোতোয়াল্লীর ওয়ারিশ ও পলাশবাড়ী পৌর যুবদলের আহ্বায়ক আব্দুল লতিফ সরকার বলেন, খাদ্য বিভাগ দীর্ঘদিন জমিটি সাময়িকভাবে ব্যবহার করায় পরবর্তী বিআরএস জরিপে ভুলবশত তাদের নামে রেকর্ড হয়েছে। রেকর্ড সংশোধনের জন্য আদালতে মামলা করা হয়েছে। আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জমিটির প্রকৃত মালিকানা নির্ধারিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
মসজিদ নির্মাণ কমিটির সভাপতি বলেন, সিএস ও এসএ রেকর্ডে জমিটি ধর্মীয় সম্পত্তি হিসেবে নথিভুক্ত রয়েছে। স্থানীয় মুসল্লিদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সেখানে মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অপরদিকে খাদ্য বিভাগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিআরএস রেকর্ড অনুযায়ী জমিটি সরকারের এবং দীর্ঘদিন ধরে সেখানে সরকারি কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে।
জমিটির প্রকৃত মালিকানা নিয়ে তিন পক্ষের ভিন্ন দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আদালতের চলমান মামলার নিষ্পত্তিই এখন বিরোধের চূড়ান্ত সমাধানের পথ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।