
পলাশবাড়ী(গাইবান্ধা) প্রতিনিধিঃ প্লাস্টিক ও থার্মোকলের ক্ষতিকর ব্যবহার কমিয়ে পরিবেশ সুরক্ষায় দেশজুড়ে যখন একবার ব্যবহারযোগ্য বা ওয়ান-টাইম পণ্যের বিকল্প খোঁজা হচ্ছে, ঠিক তখনই উত্তরাঞ্চলের জেলা গাইবান্ধায় উদ্যোগ নেয়া হয়েছে পেপার প্লেট তৈরির। কম খরচ, আকর্ষণীয় ডিজাইন এবং স্বাস্থ্যসম্মত হওয়ায় এটি জনপ্রিয়তা পাবে বলে উদ্যোক্তা রেজাউন্নবী রাজু মনে করেন। গাইবান্ধা পৌরসভার আদর্শপাড়ায় ব্যক্তিগত উদ্যোগে স্থাপন করা হয়েছে আধুনিক পেপার প্লেট তৈরির ক্ষুদ্র কারখানা।
উদ্যোক্তা রেজাউন্নবী রাজু জানান, সাধারণ গোল প্লেট এবং আকর্ষণীয় প্রিন্টেড ও সিলভার লেমিনেটেড প্লেট তৈরি হচ্ছে এখানে, যা দেখতে যেমন সুন্দর তেমনি ওজনে হালকা ও শক্তপোক্ত। তিনি বলেন, প্লাস্টিক পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করলেও পেপার প্লেট খুব সহজেই পচনশীল ও পরিবেশবান্ধব। তিনি আরও জানান, পাইকারি ও খুচরা বাজারে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকায় সামাজিক অনুষ্ঠান, পিকনিক বা ছোট-বড় রেস্তোরাঁয় এর ব্যবহার করা যায়। শুধু তাই নয়, মানসম্মত জিএসএম পেপার এবং উন্নতমানের ফুডগ্রেড ল্যামিনেশন ব্যবহারের ফলে তেল বা ঝোলযুক্ত খাবারেও প্লেটগুলো সহজে ভিজে নষ্ট হয় না। এই শিল্প শুধু ব্যবসায়িক সাফল্যই আনবে না, বরং গাইবান্ধা অঞ্চলে কর্মসংস্থানের নতুন দুয়ার খুলে দিবে। কারখানাতে স্থানীয় নারীরা কাজ করে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন করছেন। কাঁচামাল হিসেবে মূলত বাইরে থেকে আনা মানসম্মত বোর্ড পেপার ব্যবহার করা হয়, যা পরে কারখানায় ডাই-কাটিং মেশিনের মাধ্যমে নিখুঁত প্লেটের রূপ নেয়।
উদ্যোক্তা রেজাউন্নবী রাজু বলছেন, সরকারি বা ব্যাংক পর্যায়ে সহজ শর্তে ঋণ এবং আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তা পেলে এই খাতটিকে বড় শিল্পে রূপান্তর করা সম্ভব, যা জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।