
স্টাফ রিপোর্টার বগুড়াঃ
কনস্টেবল মোঃ রানা মাসুদ, আদমদীঘি থানা, বগুড়া (১৮/০৫/২০২৬ খ্রি. হতে গড় হাজির) অভিযোগ করেন যে, তার মেয়ে অপহরণ হয়েছে এ সংক্রান্তে থানায় মামলা করতে গেলে থানায় কোন মামলা গ্রহণ করেনি। সে একজন পুলিশ সদস্য হওয়ার পরেও থানায় পুলিশি সেবা পেতে বিভিন্ন হয়রানি ও অনিয়মের স্বীকার হচ্ছেন যা ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পরে যার ফলে জনমনে একটি নেতিবাচক ধারণা তৈরী হয়। ঘটনাটি আদৌ সত্য নয়। প্রকৃত ঘটনা হচ্ছে-
গত ইংরেজী ২৬/০২/২০২৬ খ্রি. সকাল অনুমান ০৮.০০ ঘটিকার সময় বগুড়া আদমদীঘি থানার কনস্টেবল মোঃ রানা মাসুদ এর মেয়ে তাসনিয়া রানা তামান্না (১৭) প্রাইভেট পরতে গিয়ে নিখোজ হয়। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে মোঃ শহিদ হোসেন (১৮), পিতা- মোঃ আলম হোসেন, গ্রাম- সোনাপুর, থানা- পাঁচবিবি, জেলা- জয়পুরহাটসহ কয়েকজন এর বিরুদ্ধে অপহরণের অভিযোগ দায়ে করেন। তৎপ্রেক্ষিতে আদমদীঘি থানার মামলা নম্বর ১৩, তারিখ-২৬/০২/২০২৬, ধারা- নাঃশিঃনিঃ আইনের ৭/৩০ মূলে মামলা রুজু হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নিরস্ত্র) মোঃ বাবুল আক্তার মামলাটি তদন্তকালে ভিকটিম উদ্ধারপূর্বক বিজ্ঞ আদালতে ভিকটিমের নাঃশিঃনি আইনের ২২ ধারা মোতাবেক জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করান এবং আদালতের মাধ্যমে ভিকটিমকে পিতার জিম্মায় প্রদান করেন। আদালতের ২২ ধারার জবানবন্দিতে ভিকটিম বলেন যে, আসামী মোঃ শহিদ হোসেন (১৮) এর সাথে তার ০৪ বছরের প্রেমের সম্পর্ক। সেজন্য সে গত ২৬/০২/২০২৬ খ্রি. শাহীদের সাথে গিয়ে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন এবং স্বামী-স্ত্রী হিসেবে ঘর সংসার করতে থাকেন। অপর দিকে ভিকটিমের বয়স ১৭ হওয়ায় এবং ডাক্তারি পরিক্ষার মতামতের ভিত্তিতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্ত শেষে আসামী মোঃ শহিদ হোসেন (১৮) এর বিরুদ্ধে বিজ্ঞ আদালতে আদমদীঘি থানার অভিযোগপত্র নম্বর ৬৫, তারিখ- ৩০/০৪/২০২৬ খ্রি. ধারা- নাঃশিঃনিঃ ৭/৯(১) মূলে অভিযোগপত্র দাখিল করেন ।
পরবর্তীতে ভিকটিম মোছাঃ তাসনিয়া রানা তামান্না (১৭) পূনরায় ০১/০৫/২০২৬ খ্রি. সকাল অনুমান ০৭.০০ ঘটিকার সময় আসামী মোঃ শহিদ হোসেনের সহিত চলে গেলে ভিকটিমের বাবা পুলিশ সদস্য মোঃ রানা মাসুদ বিজ্ঞ আদালতে পিটিশন নম্বর-৭৪/২০২৬ মূলে অভিযোগ দায়ের করলে তৎপ্রেক্ষিতে আদমদীঘি থানার মামলা নম্বর ১০, তারিখ-০৭/০৫/২০২৬ খ্রি. ধারা-নাঃশিঃনি আইনের ৭/৩০ মূলে রুজু হয় এবং যা বগুড়া জেলা ডিবির অধীনে তদন্তাধীন আছে এবং ভিকটিম উদ্ধারসহ আসামী গ্রেফতারের পবরর্তী কার্যক্রম চলমান।
উল্লেখ্য যে, ভিকটিম তাসনিয়া রানা তামান্না (১৭) তার নিজ নামীয় ফেসবুক একাউন্ট (Tamanna Tasnia) থেকে লাইভে এসে বিবৃতি প্রদান করেছে। যা হুবহু তুলে ধরা হলো- আসসালামু আলাইকুম। আমার নাম মিস তাসনিয়া রানা তামান্না। আমার নামে কিডন্যাপিং ও অপহরণের যে মামলাটি দেওয়া হয়েছে এটি পুরাটাই মিথ্যা এবং ভূল বানোয়াট। ইতিমধ্যেই আপনারা দেখছেন যে আমার বাবা মোঃ রানা মাসুদ একজন পুলিশ কনস্টেবল সে। একজন পুলিশ কনস্টেবল হয়ে নিজের মেয়ের নামে মিথ্যা গুজব ছড়াচ্ছে। আসলে আমার একটা দীর্ঘ দিনের সম্পর্ক ছিলো ০৪ বছরের। আমার হাজবেন্ডের নাম মোঃ শহিদ হোসেন। আমার বাবা, আমাদের ফ্যামিলির মানুষজন এটা মেনে নিচ্ছে না আমার হাজবেন্ডের নামে পোস্টার ছাপাচ্ছে। মানে সব মিথ্যা, অপহরণ। মানে আমার হাজবেন্ড আমাকে অপহরণ করছে। এসব মিথ্যা গুজব ছড়াচ্ছে। এর আগেও আমি চলে এসেছিলাম। তারপর আমার শশুর-শাশুড়ীকে মারধর করে মানে আমাকে জোর করে এখান থেকে নিয়ে যায়। মানে আমার শশুর বাড়ি থেকে নিয়ে যায়। এছাড়াও বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে ঐ ছেলের সাথে সম্পর্ক রাখার জন্য তার পিতা-মাতা কর্তৃক হুমকি প্রদান সহ নির্যাতন এবং ঐ ছেলের সাথে স্বেচ্ছায় চলে যাওয়ার ব্যাপারের বক্তব্য প্রদান করে।
প্রকাশ থাকে যে, উক্ত ভিকটিম একই ছেলের সাথে ৩/৪ বার স্বেচ্ছায় চলে গিয়েছিল এবং পুলিশ তাকে উদ্ধার করেছিল।