
নিজস্ব প্রতিবেদক : ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা পরিবর্তন এলেও সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নির্বাচনে আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা অংশগ্রহণ এবং কয়েকজনের বিজয় নিয়ে জেলাজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। এসব প্রসঙ্গে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট সাইদুর রহমান বাচ্চু।
তিনি বলেন, মাননীয় মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ভাইও বলেছেন, এক মিনিটের জন্য যিনি আওয়ামী লীগ করেছেন, তিনি বিএনপি করতে পারবেন না। তিনি এখনও তার বক্তব্যে অটল আছেন। কয়েকদিন আগেও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটি থেকেও একই ধরনের বক্তব্য দেওয়া হয়েছে।
চেম্বার নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতাদের অংশগ্রহণের বিষয়ে সাইদুর রহমান বাচ্চু বলেন, তিনি নির্বাচনের আগে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্বে থাকলেও নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব ছিল নির্বাচন কমিশনারের ওপর। সংবিধান ও গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নির্বাচনের তিন মাস আগেই তার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ফলে কে নির্বাচনে অংশ নেবেন, কার মনোনয়ন বৈধ হবে বা বাতিল হবে? এসব সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার নির্বাচন কমিশনের।
তিনি বলেন, আমি স্পষ্ট বলতে চাই, আমি সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ছিলাম। যখন উন্মুক্ত ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের ঘোষণা দেওয়া হয়, তখন কারা অংশগ্রহণ করছে কিংবা কারা নির্বাচন করছে, সেটি আমার জানার বিষয় ছিল না। আমরা শুধু একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন চেয়েছিলাম এবং সেই দাবি নির্বাচন কমিশনের কাছে উপস্থাপন করেছিলাম। আওয়ামী লীগের নেতারা কীভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে পেরেছেন, সেই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার দায়-দায়িত্ব আমার নয়।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে এ বিষয়ে তার কোনো করণীয় ছিল কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে অবশ্যই আমার করণীয় ছিল। তবে নির্বাচন চলাকালে কে অংশ নিচ্ছে বা কে অংশ নিচ্ছে না, সে বিষয়টি আমার জানা ছিল না। পরে আমি বিষয়টি জেনেছি।
নির্বাচনে বিজয়ী আওয়ামী লীগপন্থি নেতাদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়ার ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার বিষয়েও কথা বলেন সাইদুর রহমান বাচ্চু। তিনি বলেন, বিষয়টি খুবই স্বাভাবিক। তিন মাস আগে আমি দায়িত্ব ছেড়েছি। নির্বাচন হয়েছে, সবাই বিজয়ী হয়েছেন। আমিও সভাপতি নির্বাচিত হয়েছি। সভাপতি হিসেবে সবাইকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া আমার দায়িত্ব। আমি সেই দায়িত্ব পালন করেছি। এর অর্থ এই নয় যে আমি কাউকে সমর্থন করি।