👁 408 Views

গলাকাটা ভাড়ায় অতিষ্ঠ যাত্রীরা- মাওনা চৌরাস্তায় জিম্মি হাজারো মানুষ!

‎‎আশিকুর রহমান সবুজ, (গাজীপুর) : গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার ব্যস্ততম মাওনা চৌরাস্তা এখন অবৈধ সিএনজিচালিত অটোরিকশার দখলে।

‎ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ এই মোড়ে দীর্ঘদিন ধরে মহাসড়কের দুই পাশে অনিয়ন্ত্রিতভাবে গড়ে ওঠা সিএনজির অবৈধ স্ট্যান্ড, যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কারণে প্রতিদিনই সীমাহীন দুর্ভোগে পড়ছেন হাজারো মানুষ।

‎স্থানীয়দের অভিযোগ, সমস্যাটি দীর্ঘদিনের হলেও কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় পরিস্থিতি দিন দিন আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে। এতে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগীরা।

‎সরেজমিনে দেখা যায়, মহাসড়কে থ্রি-হুইলার চলাচল নিষিদ্ধ থাকলেও মাওনা চৌরাস্তায় শত শত সিএনজিচালিত অটোরিকশা প্রকাশ্যে মহাসড়কের ওপর ও পাশে দাঁড়িয়ে যাত্রী পরিবহন করছে। নির্ধারিত কোনো স্ট্যান্ড না থাকলেও একটি প্রভাবশালী চক্রের ছত্রছায়ায় এসব যানবাহন ঘণ্টার পর ঘণ্টা মহাসড়ক দখল করে রাখছে। ফলে সড়কের একটি বড় অংশ সংকুচিত হয়ে বাস, ট্রাক, ব্যক্তিগত গাড়ি ও দূরপাল্লার পরিবহনের চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

‎প্রতিদিন সকাল ও বিকেলে অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী, শিল্পাঞ্চলের শ্রমিক এবং দূরপাল্লার যাত্রীদের সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হয়। কয়েকশ মিটার পথ অতিক্রম করতেই অনেক সময় ২০ থেকে ৩০ মিনিট লেগে যায়। দীর্ঘ যানজটে আটকে থেকে কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে, বাড়ছে জ্বালানি অপচয় ও জনদুর্ভোগ।

‎যাত্রীদের অভিযোগ, যানজটের পাশাপাশি অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ও এখন নিত্যদিনের ঘটনা। নির্ধারিত ভাড়ার কোনো তোয়াক্কা না করে চালকরা ইচ্ছেমতো ভাড়া দাবি করেন। অল্প দূরত্বেও বেশি ভাড়া না দিলে অনেক সময় যাত্রী নিতে অস্বীকৃতি জানান। প্রতিবাদ করলে বাকবিতণ্ডা এমনকি দুর্ব্যবহারের ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

‎স্থানীয় বাসিন্দা আসাদুজ্জামান বলেন, মাওনা চৌরাস্তা এখন সিএনজির দখলে চলে গেছে। রাস্তার ওপরই তারা স্ট্যান্ড বানিয়ে রেখেছে। প্রতিদিন যানজটে মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে, আবার অতিরিক্ত ভাড়াও গুনতে হচ্ছে। আগে নয়নপুর থেকে মাওনা চৌরাস্তার ভাড় ছিল ২০ টাকা এখন নিচ্ছে ৪০ টাকা। এত অভিযোগের পরও স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

‎পোশাক কারখানার কর্মী জালাল উদ্দীন বলেন, প্রতিদিন কাজে যেতে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। আগে যে ভাড়া লাগত, এখন তার চেয়ে অনেক বেশি দিতে হচ্ছে। বেশি ভাড়া না দিলে চালকরা যেতে চান না।

‎স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. মিজানুর রহমান বলেন, যানজটের কারণে অনেক ক্রেতাই দোকানে আসতে পারেন না। ব্যবসায় ক্ষতি হচ্ছে। মাঝে মধ্যে অভিযান হলেও কয়েক দিনের মধ্যেই সব আগের অবস্থায় ফিরে আসে। এতে বোঝা যায়, অভিযানগুলো স্থায়ী কোনো ফল দিচ্ছে না।

‎স্থানীয়দের দাবি, মহাসড়কের ওপর হঠাৎ সিএনজি থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করানোর কারণে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। দ্রুতগতির যানবাহনের মাঝখানে এমন অনিয়ন্ত্রিত কার্যক্রম যে কোনো সময় বড় ধরনের প্রাণহানির কারণ হতে পারে।
‎তাদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঝে মধ্যে অভিযান পরিচালনা করলেও তা নিয়মিত নয়। ফলে কয়েক দিনের মধ্যেই অবৈধ স্ট্যান্ড ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের পুরোনো চিত্র ফিরে আসে। দীর্ঘদিন ধরে একই সমস্যা চললেও স্থায়ী সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় প্রশাসনের দায় এড়ানোর সুযোগ নেই বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

‎এ বিষয়ে মাওনা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামান বলেন, মাওনা চৌরাস্তায় যানজট নিরসনে পুলিশ নিয়মিত কাজ করছে। অবৈধভাবে মহাসড়ক দখল করে যানবাহন দাঁড় করানো কিংবা যাত্রী ওঠানামা করানোর বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়টি প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

‎শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদ ভুঁইয়া বলেন, অননুমোদিত স্ট্যান্ড পরিচালনা এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ তাঁর নজরে এসেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করবে।

‎তবে স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও যাত্রীদের প্রশ্ন,অভিযোগ, আশ্বাস ও সাময়িক অভিযানের মধ্যেই যদি সব সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে মাওনা চৌরাস্তার এই দীর্ঘদিনের সংকটের স্থায়ী সমাধান কবে হবে? তাদের দাবি, অবিলম্বে মহাসড়ক থেকে অবৈধ সিএনজি স্ট্যান্ড উচ্ছেদ, নির্ধারিত স্থানে স্ট্যান্ড স্থানান্তর, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কঠোর নজরদারিই পারে এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *