
ধোবাউড়া (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি: ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের স্বল্পতায় স্বাভাবিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। কর্মরত চিকিৎসকদের মধ্যে পাঁচজন বর্তমানে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে সংযুক্ত থাকায় হাসপাতালের নিয়মিত কার্যক্রমে চাপ বেড়েছে।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিশেষ করে ভর্তি রোগীদের নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ পাওয়া নিয়ে ভোগান্তি রয়েছে। কোনো কোনো রোগীর ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে চিকিৎসকের পরামর্শের জন্য। স্বজনদের দাবি, কখনো কখনো ২৪ ঘণ্টার মধ্যে একবার চিকিৎসকের দেখা পাওয়া যায়।
হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ডা. খাদিজা আক্তার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের গাইনি বিভাগে, ডা. প্রাপ্তি পেট্রেশিয়া মহাখালীতে, ডা. নাহিদা নাজনীন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, ডা. রাজশ্রী দেবনাথ বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতালে এবং ডা. সেলিম রেজা সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সংযুক্ত রয়েছেন।
একই সময়ে পাঁচজন চিকিৎসক নিজ কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন না করায় হাসপাতালে থাকা চিকিৎসকদের ওপর বাড়তি দায়িত্ব পড়ছে। এতে বহির্বিভাগে রোগী দেখা থেকে শুরু করে অন্তর্বিভাগে ভর্তি রোগীদের চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণ—সব ক্ষেত্রেই চাপ তৈরি হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, উপজেলা পর্যায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সংকট দীর্ঘায়িত হলে সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। তাই সংযুক্তিতে থাকা চিকিৎসকদের দ্রুত ধোবাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ফিরিয়ে এনে চিকিৎসক সংকট দূর করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
ধোবাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মির্জা রিয়াদ হাসান এ বিষয়ে বলেন, “সংযুক্তিতে থাকার সুযোগ নেই। তাদেরকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। আশা করছি, তারা দ্রুত কর্মস্থলে চলে আসবেন।”
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে এবং হাসপাতালে চিকিৎসক সংকটের অবসান ঘটিয়ে রোগীদের নিয়মিত ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করবে।