👁 229 Views

রাজারহাটে বন্ধ বেতন-ভাতা চালুর দাবিতে মাদরাসা শিক্ষকদের মানববন্ধন

মোঃ বুলবুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার সিরাজ উদ্দিন দাখিল মাদরাসার শিক্ষকদের বন্ধ থাকা বেতন-ভাতা দ্রুত চালুর দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) মাদরাসা মাঠে সাধারণ শিক্ষক-কর্মচারীদের উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধনে শিক্ষকরা বলেন, দুই মাস ধরে বেতন-ভাতা বন্ধ থাকায় তারা পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন- মাদরাসার সহকারী শিক্ষক হেলালুজ্জামান, রেজ্জাকুল ইসলাম, আব্দুর রশিদসহ অন্যরা।
বক্তারা অভিযোগ করেন, মাদরাসার ম্যানেজিং কমিটি ও সুপারের অভ্যন্তরীণ বিরোধের কারণে সাধারণ শিক্ষকরা কেন ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তাদের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক নিয়মিত ছুটি না নিয়ে দিনের পর দিন মাদরাসায় অনুপস্থিত থাকায় প্রশাসনিক কার্যক্রমসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে জটিলতা ও স্থবিরতা তৈরি হয়েছে।
শিক্ষকরা আরও বলেন, নিয়োগকে কেন্দ্র করে ম্যানেজিং কমিটি ও মাদরাসা সুপারের মধ্যে বিরোধ দীর্ঘদিন ধরে চলায় এর প্রভাব পড়ছে শিক্ষা কার্যক্রম ও শিক্ষকদের ওপর। এরই মধ্যে দুই মাস ধরে বেতন-ভাতা বন্ধ থাকায় সাধারণ শিক্ষকরা আর্থিক সংকটে পড়েছেন। এতে তাদের পরিবার-পরিজনও অর্থনৈতিক সমস্যার মুখে পড়েছে।
বক্তারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, দ্রুত এ বিরোধের সমাধান না হলে সিরাজ উদ্দিন দাখিল মাদরাসাটি ধ্বংসের মুখে পড়তে পারে। তারা দ্রুত রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) হস্তক্ষেপে সমস্যার সমাধান এবং শিক্ষকদের বকেয়া বেতন-ভাতা চালুর দাবি জানান।

সিরাজ উদ্দিন দাখিল মাদরাসার সভাপতি মো. আনিছুর রহমান বলেন, “পূর্বের এডহক কমিটির আমল থেকে সুপার ও একাধিক শিক্ষক কোন বৈধ রেজুলেশন ছাড়াই অনেক মাস ধরে প্রতিষ্ঠানে অনুপস্থিত থাকতেন এবং গোপনে হঠাৎ এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করতেন। বিষয়টি আমি জানতে পেয়ে সুপার ও সুপারের অনুপস্থিতিতে দ্বায়িত্ব পালনকারী সহকারী মৌলভি মোঃ সুলতান আলীর কাছে রেজুলেশন খাতা দেখতে চাই। ঠিক তখন থেকে তারা আমাকে বিভিন্ন ভাবে অসহযোগিতা করে আসছিলো। এরই ধারাবাহিকতায় আমি ও শিক্ষক প্রতিনিধিগণ বিলে স্বাক্ষর করার পরও সুপার ও সাধারণ সদস্যরা শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন-ভাতায় স্বাক্ষর না করে একটা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিই করছে।”

এ ব্যাপারে রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিলা তাসনিম জানান, ” সুপাররিনটেনডেন্ট নিয়ম বহির্ভূতভাবে সাধারণ শিক্ষকদের বেতন সীটে স্বাক্ষর করছেন না। যেকারণে দুই মাস থেকে বেতন পাচ্ছেন না। বিষয়টি খুবই অমানবিক। লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত বিষয়টির সমাধান করা হবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *